উকিল মুন্সীর উদার একতারা: ইমামতি ও গান
এ বছরের মে মাসের ঘটনা। নেত্রকোনার হাসনপুর গ্রামে বাউলগানের একটি আয়োজন নিয়ে সেখানকার ইমাম ও ওলামা পরিষদ আপত্তি করে। অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য তারা ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদকে চিঠি দেয় এবং অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গত শতাব্দীর ওই অঞ্চলের মরমি সাধক উকিল মুন্সীর কথা, যিনি একাধারে ইমামতি করতেন, আবার গানও করতেন। তাঁর কৃষ্ণভজন সেই অঞ্চলের হিন্দু–মুসলমান সবার আত্মক্ষুধা মিটিয়েছে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত গোলাম এরশাদুর রহমানের ‘নেত্রকোনার বাউলগীতি’ বইয়ে উল্লে
নেত্রকোনার মরমি সাধক উকিল মুন্সী একইসঙ্গে ইমামতি ও বাউল গান করতেন, যা হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। ১৯৫১ সালে নেত্রকোনার একটি বাউল গানের আসরকে স্থানীয় আলেম সমাজ বিরোধিতা করলেও সাধারণ মানুষ গানের আসরেই ভিড় জমায়। উকিল মুন্সীর বিখ্যাত গানগুলো, যেমন ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, ভাটি বাংলার সম্পদ হওয়ার পাশাপাশি সমগ্র বাংলার বিরহভাবের প্রতিনিধিত্ব করে। তার গানে হাওরের প্রকৃতি, রাধাকৃষ্ণের বিরহ এবং সুফি ভাবধারার মেলবন্ধন ঘটেছে। তিনি শ্রীচৈতন্য ও বৈষ্ণব ভাবধারার উত্তরসূরি ছিলেন, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। উকিল মুন্সী তার গানে সুফি দর্শনের 'ফানা' ও বৈষ্ণব দর্শনের 'রাধাভাব'কে একসূত্রে গেঁথেছেন।
উকিল মুন্সীর জীবন ও কর্ম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যা আজও প্রাসঙ্গিক।
📌 Kaynak
Bu özet Bangladesh kaynağından otomatik derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →