কথিত নথিপত্রহীন বাংলাদেশি বলে সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টায় ভারত, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
কথিত নথিপত্রহীন বাংলাদেশি বলে সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টায় ভারত, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় প্রতিবেশী বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর গ্রামের একটি তল্লাশিচৌকির কাছে তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন রাইসুল ইসলাম। রাইসুলের স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৩৬) এবং তাঁদের দুই ছেলে রিয়াদ (১৪) ও জুবায়ের (১৬) কাছেই কাঁচা ইট ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি একটি অসমাপ্ত ভবনে বসে আছে। প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্রতা, সেই সঙ্গে খাওয়ার পানির অভাব—সব মিলিয়ে ঠাসাঠাসি অপেক্ষার এই কক্ষটি যেন একটি চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। ভবনটিতে গাদাগাদি করে থাকা এই মানুষেরা বা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় প্রতিবেশী বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর গ্রামের একটি তল্লাশিচৌকির কাছে তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন রাইসুল ইসলাম। রাইসুলের স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৩৬) এবং তাঁদের দুই ছেলে রিয়াদ (১৪) ও জুবায়ের (১৬) কাছেই কাঁচা ইট ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি একটি অসমাপ্ত ভবনে বসে আছে। প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্রতা, সেই সঙ্গে খাওয়ার পানির অভাব—সব মিলিয়ে ঠাসাঠাসি অপেক্ষার এই কক্ষটি যেন একটি চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। ভবনটিতে গাদাগাদি করে থাকা এই মানুষেরা বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত মুসলিম অভিবাসী, যাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের শুরু করা শনাক্তকরণ, বাদ দেওয়া ও নির্বাসন (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নীতির অংশ হিসেবে তাঁদের সীমান্তবর্তী এই গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। কট্টরপন্থী বিজেপি মাত্র মাসখানেক আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম সীমান্ত। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও রয়েছে। এর মধ্যে দুই পারের লাখ লাখ মুসলিম ও হিন্দুর মাতৃভাষা এক। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের দরিদ্র শ্রমিকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অভিবাসনের ইতিহাস শত বছরের পুরোনো। কিন্তু প্রায় ১০ কোটি মানুষের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর, উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলটির সরকার তথাকথিত অনথিভুক্ত মুসলিম অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে একটি কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে এসব কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের আটকে রাখা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য বিজেপি সরকার। রাইসুল ইসলাম, আল–জাজিরাকে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত তল্লাশিচৌকিতে আমরা শুধু আমাদের সন্তানদের একটি ভালো জীবন দেওয়ার জন্য ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু একশ্রেণির মানুষের অবিরাম হয়রানি ও অপমান আমাদের এমন এক দেশের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে ফিরতে বাধ্য করেছে, যে দেশ সবার জন্য অহিংসা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এই অভিযান কেবল কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলিমদের একটি অংশের মধ্যেও আশঙ্কা তৈরি করেছে। তাঁদের শঙ্কা, তাঁরাও এমন একটি অভিযানের শিকার হতে পারেন। তাঁদের মতে, তাঁরা নিজেদের আইনি অবস্থার পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এ ধরনের অভিযানের শিকার হতে পারেন। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে প্রতিবেশী রাজ্য আসামে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রায় ১২ জন ভারতীয় মুসলিমকে কথিত অনথিভুক্ত অভিবাসী বলে অভিযুক্ত করে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। বাংলাদেশ তাঁদের ফেরত পাঠায়। ফলে তাঁরা সাময়িকভাবে নো ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কী কারণে তাঁদের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটার কোনো ব্যাখ্যা বা বিচার তাঁরা কখনো পাননি। এখন, এক বছর পর, পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রের দৃশ্য উন্নত জীবিকার সন্ধানে হাকিমপুর সীমান্ত তল্লাশিচৌকিতে জড়ো হওয়া অনেকের মতো ৩৮ বছর বয়সী রাইসুল ইসলামও উন্নত জীবিকার আশায় ভারতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা তিনি। আল–জাজিরাকে রাইসুল বলেন, ‘দুই বছর আগে স্ত্রীর চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য আমরা ভারতে এসেছিলাম। পরে দেখি, বাংলাদেশে যা আয় হতো তার চেয়ে এখানে বেশি মজুরি পাওয়া যায়। তাই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের দরিদ্র শ্রমিকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অভিবাসনের ইতিহাস শত বছরের পুরোনো। রাইসুলের ভাষ্য, তিনি ও তাঁর পরিবারকে সীমান্ত পার করে দিতে এক দালালকে প্রায় ২৫০ ডলার (বর্তমান হিসাবে প্রায় ৩০ হাজার ৭০০ টাকা) দিতে হয়েছিল, যা তাঁর জন্য অনেক বেশি টাকা। তাঁরা কলকাতায় গিয়ে শহরের উপকণ্ঠে একটি ঘর ভাড়া নেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং দিনে দুজনে মিলিয়ে প্রায় ১০ ডলার (প্রায় ১ হাজার ২৩০ টাকা) আয় করতেন। তবে গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত উগ্রপন্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধভাবে বসবাসরত কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত এক দশকে তাঁর দল বিজেপি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের অভিযান চালিয়েছে। তবে শুভেন্দুর ঘোষণায় একটি শর্ত ছিল। তিনি জানান, এই অভিযান কেবল মুসলিম বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে। বিতর্কিত সাংবিধানিক এক সংশোধনের আওতায় হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী অভিবাসীরা এর বাইরে থাকবেন। উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের আগে আদালতে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, বিদেশি নাগরিকদের ভারতীয় সংবিধানের অধীনে কোনো অধিকার নেই বললেই চলে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নীতিতে বহিষ্কারের মুখে পড়া ব্যক্তিদের প্রমাণ করতে হচ্ছে, কেন তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না। মিরাজুল গাজী, আল–জাজিরাকে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত তল্লাশিচৌকিতে পাঁচ বছর কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাড়িওয়ালা ঘর ছাড়তে বলেন। স্থানীয়দের হামলার আশঙ্কায় আমরা ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। এর পর থেকে গত দুই সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাউকে আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, আবার কাউকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাইসুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন তাঁর খোঁজ পাওয়

📌 Kaynak

Bu özet Bangladesh kaynağından otomatik derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön