মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, আপনি নামের ফাঁদে পড়েছেন!

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 5 saat önce
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, আপনি নামের ফাঁদে পড়েছেন!

তালতলা হাইস্কুলের ইংরেজির মাস্টার তালেব আলি তালগাছের তলায় দাঁড়িয়ে আছেন। পেকে তুলতুলে হওয়া একটা তাল পড়ব-পড়ব করছে। সেই মুহূর্তে তালটার ওপর একটা কাক উড়ে এসে জুড়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গে তালটা মাটিতে ধপ করে পড়ল, নাকি পড়ে ধপ করল, তা বোঝা গেল না। তালেব মাস্টার এই দৃশ্য দেখে বললেন, ‘হোয়াট এ কো-ইনসিডেন্স! কী কাকতালীয় ঘটনারে মাইরি!’ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হুবহু একই রকমের আরকেটা কাক একই কায়দায় উড়ে এসে হুবহু একই রকম আরেকটা তালের ওপর এসে হুবহু একই ঢংয়ে বসল এবং হুবহু একই কায়দায় দ্বিতীয় তালটিও পড়ে ধপ

তালতলা হাইস্কুলের ইংরেজির মাস্টার তালেব আলি তালগাছের তলায় দাঁড়িয়ে আছেন। পেকে তুলতুলে হওয়া একটা তাল পড়ব-পড়ব করছে। সেই মুহূর্তে তালটার ওপর একটা কাক উড়ে এসে জুড়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গে তালটা মাটিতে ধপ করে পড়ল, নাকি পড়ে ধপ করল, তা বোঝা গেল না। তালেব মাস্টার এই দৃশ্য দেখে বললেন, ‘হোয়াট এ কো-ইনসিডেন্স! কী কাকতালীয় ঘটনারে মাইরি!’ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হুবহু একই রকমের আরকেটা কাক একই কায়দায় উড়ে এসে হুবহু একই রকম আরেকটা তালের ওপর এসে হুবহু একই ঢংয়ে বসল এবং হুবহু একই কায়দায় দ্বিতীয় তালটিও পড়ে ধপ করল। তালেব মাস্টার প্রবল বিস্ময়ে বললেন, ‘অ্যানাদার কো-ইনসিডেন্স!’ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হুবহু একই রকমের আরকেটা কাক একই কায়দায় উড়ে এসে হুবহু একই রকম আরেকটা তালের ওপর এসে হুবহু একই কায়দায় বসল এবং হুবহু একই কায়দায় তৃতীয় তালটিও পড়ে ধপ করল। তালেব মাস্টার এবার প্রায় চিৎকার করে বললেন, ‘অ্যানাদার কো-ইনসিডেন্স!’ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে শুধরে নিয়ে বললেন, ‘হোয়াট এ মিরাকল!’ বিসিবিতেও গাদা গাদা জাদা-জাদির গাদাগাদি! ইংরেজি ব্যাকরণ পড়ানো তালেব মাস্টার বুঝলেন, পতনমুহূর্তে তালের ওপর কাক বসার পর তালের পড়ে যাওয়াকে ‘কাকতালীয়’ বলা যায়। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় তালের পড়ে যাওয়াকেও না হয় কাকতালীয় বলা যায়। কিন্তু তিন নম্বর তালটিও যখন একইভাবে পড়ে, তখন আর সেই ঘটনাকে কাকতালীয় বলা যায় না। তখন সেই তাল পড়ার ঘটনা হয়ে যায় তেলেসমাতি ঘটনা বা ‘কুদরতকি কারিশমা’ বা অলৌকিক ঘটনা বা মিরাকল। তালতলার তালেব মাস্টারের তালগাছ তলার ঘটনার মতো বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায়ও ছেঁড়া ছেঁড়া তিনটা ‘কাকতালীয় কো-ইনসিডেন্স’ সুন্দরমতো জোড়া লেগে গিয়ে শেষ পর্যন্ত একটা আস্ত ‘মিরাকল’ হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকা (বগুড়া-২ আসন) বগুড়ার শিবগঞ্জ এবং নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পলিটিক্যাল কদমবুসি কালচার যে কারণে ভয়ের শিবগঞ্জ উপজেলায় যে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। আর মোকামতলা উপজেলায় যে নতুন তিনটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে, তার একটির নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, আরেকটির নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং আরেকটির নাম ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’। এক নম্বর কাকতাল হলো—একদিকে প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ি’, অন্যদিকে, সেখানে বানানো নতুন ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। দুই নম্বর কাকতাল হলো, নতুন একটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, আবার প্রতিমন্ত্রীর এক ছেলের নাম ‘মীর সীমান্ত’। তিন নম্বর কাকতাল হলো, নতুন আরেকটি ইউনিয়নের নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’, কী আচানক ব্যাপার, প্রতিমন্ত্রীর আরেক ছেলে নাম মীর দিগন্ত। প্রতিমন্ত্রীর এক ভাতিজির নাম ‘স্বর্ণালী’, আবার নতুন আরেকটি ইউনিয়নের নাম ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’। একের পর এক নামের কাকতালীয় মিল। মানে, একের পর এক কাক উড়ে আসছে, আর তালের ওপর বসছে; আর সমানে একের পর এক তাল পড়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, এতগুলো বেতাল কাণ্ডের মধ্যে তাল না পেয়ে ‘একটি বিশেষ মহল’ এই কাকতালীয় ঘটনাগুলোকে প্রতিমন্ত্রীর নিজের বংশ-গুষ্টির নাম ফাটানোর অপচেষ্টা হিসেবে দেখা শুরু করেছে। নহি যন্ত্র নহি যন্ত্র, আমি মানুষ এক সময় যেভাবে ‘নেত্রীকে ভুল বোঝানো’ হতো, সম্ভবত একইভাবে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামকে কেউ ভুল বুঝিয়ে থাকতে পারে। হয়তো সে কারণেই সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি নালিশের মতো করে বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এলাকায় একটি ইউনিয়নে তাঁর মীর বংশের নামে “মীরবাড়ি” নামে নামকরণ করেছেন। তাঁর দুই সন্তান দিগন্ত ও সীমান্তের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।...বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে নাম সংশোধনী করতে অনেক সময় কেটে গিয়েছিল। এখন একই সংস্কৃতি আমাদের মাঝে ফিরছে।’ শফিকুল ইসলামের ভুল ভেঙে দেওয়ার জন্য বাদ মাগরিব সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম পুরো বিষয়টি জাতিকে বুঝিয়ে বলেছেন। প্রতিমন্ত্রী নতুন সদ্যোজাত ইউনিয়নগুলোর উদ্ভব, ক্রমবিকাশ ও সেগুলোর নামকরণের সার্থকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, মোকামতলার সৈয়দপুর ও দেউলি-এ দুটি ইউনিয়ন ছিল অনেক বড়। ইউএনও এবং ডিসি যাচাই-বাছাই করে গণশুনানি করে নতুন নাম দিয়েছেন। এখানে তাঁর হাত নেই। নিজ এলাকার বর্ণাঢ্য ভৌগোলিক বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এটার নাম করা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে; এটি দিগন্ত ছোঁয়া দূরে; তাই এর নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বংশের নামে ‘মীরবাড়ী’র ফলক। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেতগাড়ী গ্রামে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম রয়েছে উল্লেখ করে শাহে আলম বলেছেন, ‘মিরাকেলি (আদতে ‘মিরাকেলি’ বলে কোনো শব্দ নেই। সম্ভবত তিনি ‘মিরাকুলাসলি’ কথাটি বলতে চেয়েছেন) আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। আমার সন্তানদের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত। আমার যদি ইনটেনশন থাকত, তাহলে জেলা প্রশাসককে বলতাম “নাম রাখেন মীর সীমান্ত, না হলে মীর দিগন্ত”। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই।’ প্রতিমন্ত্রীর এই অতি বস্তুনিষ্ঠ, সরল সত্যভাষণে যারপরনাই উদ্বেলিত হয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে সমর্থন জানান। প্রতিমন্ত্রী তাতে বিপুল উৎসাহ পেয়ে আল্লাহর কাছে শোকরানা জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ বাঁচাইছে যে মাননীয় সংসদ সদস্য বলেনি যে বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড, ওটা আমার ব্যাংক। উনি দয়া করে যে বলেননি খুলনা থেকে পার্বতীপুরে যে ট্রেন যায় সীমান্ত এক্সপ্রেস, সেটিও আমার ট্রেন। বা উনি দয়া করে বলেননি যে গুলশান ১-এ যে দিগন্ত টাওয়ার রয়েছে, সেটিও আমার।’ প্রতিমন্ত্রীর আত্মপক্ষ সমর্থনসূচক বক্তব্যের শব্দপ্রক্ষেপনে যে বিচক্ষণতা প্রতিভাত হয়েছে, তা তালতলার তালেব মাস্টারের উপলব্ধির সাথে খাপে খাপে মিলে যায়। প্রতিমন্ত্রী নিজের বাড়ির নাম ও নিজের ছেলেদের নামের সাথে নতুন তিন

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön