হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না কেন, কবে নাগাদ সব স্বাভাবিক হবে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি ‘খুলে দেওয়ার’ ঘোষণাও দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টের শেষে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজ, ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ শুরু হোক!’ তবে বিবিসি ভেরিফাই জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তাতে দেখা গেছে, চুক্তির ঘোষণার পর এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে মাত্র সাতটি জাহাজ পার হয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি ‘খুলে দেওয়ার’ ঘোষণাও দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টের শেষে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজ, ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ শুরু হোক!’ তবে বিবিসি ভেরিফাই জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তাতে দেখা গেছে, চুক্তির ঘোষণার পর এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে মাত্র সাতটি জাহাজ পার হয়েছে। অথচ উপসাগরীয় এলাকায় ৫৮০টির মতো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত শুরুর আগের মতো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথে বড় কিছু বাধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিরাপত্তা, মাইন ও টোল। মঙ্গলবার মেরিনট্রাফিকের তথ্যে দেখা যায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে ২৫০টির বেশি তেলবাহী ট্যাংকার ও ৩৩০টির বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়ে আছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্যমতে, প্রায় ৭৫ শতাংশ ট্যাংকারই স্থির দাঁড়িয়ে আছে। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে দেখা যায়, এসব জাহাজের অনেকগুলোই সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনালের কাছে জড়ো হয়েছে। ওই এলাকায় মোট জাহাজের সংখ্যা বাস্তবে আরও বেশি হবে। কারণ, অনেক জাহাজ নিজেদের অবস্থান সম্প্রচার করছে না। ফলে সেগুলো মেরিনট্রাফিকের তথ্য আসছে না। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি তেল বিশ্লেষক নবীন দাস বলেন, ‘প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হলে প্রথমেই আমরা উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে একযোগে বেরিয়ে যেতে দেখব।’ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংকট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক গ্রুপের মার্টিন কেলি বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালিয়ে নিতে একজন ক্যাপ্টেনকে ভীষণ সাহসী হতে হবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। এর পর থেকে দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করলেই তারা গুলি ছুড়েছে। এদিকে গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোয় নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, এর পর থেকে তারা নির্দেশ অমান্যকারী নয়টি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে। এমনকি এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজের ইঞ্জিন রুমে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। এর পর থেকে দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করলেই তারা গুলি ছুড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার মার্কিন নৌ অবরোধ ‘তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের’ ঘোষণা দেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ বহাল থাকবে। ১৫ জুন ধারণ করা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ওমান উপসাগরের প্রবেশমুখে মার্কিন অবরোধ রেখার কাছাকাছি চারটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির ঘোষণার পর জাহাজের ক্যাপ্টেন, মালিক ও বিমা কর্তৃপক্ষ জাহাজকে আরব সাগরের দিকে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা উপসাগরীয় এলাকায় নিজেদের জাহাজের অবস্থান ঠিক করে নিচ্ছে। তবে কেউই প্রথম জাহাজটি নিয়ে বের হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কেপলারের বিশ্লেষক নবীন দাস বলেন, ‘আমরা এখনো সবার মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। কেউই আসলে প্রথমে ঝুঁকিটা নিতে চাইছেন না।’ ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো এভাবেই চোখে পড়ে। ১৪ জুন ২০২৬ নবীন দাস আরও বলেন, ‘কিছু মালিক ও ক্যাপ্টেন ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন। যেমন গ্রিসের কিছু কোম্পানি। আমরা হয়তো তাদের জাহাজ নিয়ে সফলভাবে প্রবেশ করতে এবং বেরিয়ে যেতে দেখব। এটি অন্যদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে।’ সাগরে জাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মিশেল উইস বকম্যান বলেন, গত এপ্রিলের শুরুর দিকের ঘটনাগুলো অনেক ক্যাপ্টেনই মনে করবেন। সে সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর ঠিক এক দিন পরই ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এই প্রণালি বন্ধ। তখন মাঝপথে থাকা ৩৩টির বেশি জাহাজ ঘুরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এমনকি বেশ কয়েকটি জাহাজে গুলি ছোড়ারও খবর পাওয়া যায়। মার্টিন কেলি বলেন, ‘পুরো চিত্রটা আসলে কেমন দাঁড়ায়, তা দেখতে আমাদের আরও দু-এক দিন, সম্ভবত শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’ ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণালিটি ইরানই পরিচালনা করবে। জলপথটি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোর ওপর সম্ভাব্য ‘সার্ভিস ফি’ও বসানো হতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের সেবার জন্য এই ফি নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। মাইনের হুমকি যুদ্ধের প্রথম দিকেই ইরান একটি হুমকি দিয়েছিল। ইরানের আধা সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটি বলেছিল, তাদের উপকূল বা দ্বীপগুলোয় হামলা হলে তারা উপসাগরে ‘বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাইন’ স্থাপন করবে। এর মধ্যে উপকূল থেকে ছাড়া যায়, এমন ভাসমান মাইনও থাকবে। এর পর থেকেই সাগরে সন্দেহজনক ‘ভাসমান’ বস্তুর বিষয়ে সতর্কতা জারি করে আসছে বহুজাতিক জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার এবং ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি সিনেট কমিটিকে জানান, ইরান ‘হরমুজ প্রণালির বিশাল অংশে মাইন পুঁতে রেখেছে’। আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ বিবিসিকে বলেন, জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফেরাতে হলে এসব মাইন অপসারণ করাই
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →