ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, বিপদে নেতানিয়াহু

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, বিপদে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত যুদ্ধ তেহরানের ধর্মীয় শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে এবং ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনের আগে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। নেতানিয়াহু নিজেকে এমন এক মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের রূপকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাই পাল্টে দেবে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটি ঘটেনি। বরং এর পরিবর্তে ইসরায়েলে দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত যুদ্ধ তেহরানের ধর্মীয় শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে এবং ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনের আগে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। নেতানিয়াহু নিজেকে এমন এক মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের রূপকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাই পাল্টে দেবে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটি ঘটেনি। বরং এর পরিবর্তে ইসরায়েলে দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখন ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার পথে রয়েছেন। কারণ, ট্রাম্প নিজেকে এই যুদ্ধ থেকে সরিয়ে নিতে চাইছেন, অথচ দুই নেতারই লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানও ওই শান্তিচুক্তির কারণে আটকে গেছে। এ মুহূর্তে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, যাতে তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে ক্ষুব্ধ করতে না হয়। ট্রাম্প সমালোচকদের প্রতি সংবেদনশীল এবং দ্রুত তাঁদের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ার জন্য পরিচিত। ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে না চাইলেও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলিদের হতাশা স্পষ্ট। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক এ চুক্তি ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা। তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। খোলামেলা মূল্যায়নে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর প্রধান পর্যন্ত—ইসরায়েলের নেতৃত্বে এমন কেউ নেই, যিনি এটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা আছে। ওয়াশিংটন বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগগুলো, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত উদ্বেগ সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, তাঁদের ধারণা এই চুক্তির অধীন নির্ধারিত আলোচনার সময়সীমা সম্ভবত আরও বাড়ানো হবে। ফলে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। অথচ তাদের উদ্বেগগুলোর সমাধান তখনো হবে না। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করতে ইসরায়েলের অনীহা নিয়ে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে বারবার মতবিরোধ হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হওয়া (যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে) ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি। এ মাসের শুরুতে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির চেষ্টা চালানোর সময় বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প এক ক্ষুব্ধ ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন। সেদিন নেতানিয়াহু হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন। তবে এক সপ্তাহ পর তিনি বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে হামলা চালান। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং ট্রাম্প প্রকাশ্যে উভয় পক্ষকেই তিরস্কার করেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। আমরা অনেক সময়ই একমত হই, আবার এমন সময়ও আসে, যখন মতভেদ হয়। আমার দায়িত্ব ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের চুক্তি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা আগে, গত রোববার ইসরায়েল আবারও লেবাননের রাজধানীতে হামলা চালিয়েছিল। এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়। ট্রাম্প এসব হামলাকে ‘ছোটখাটো ও অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। পরে গতকাল সোমবার রাতে জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে কখনো কখনো মতপার্থক্য হয়। নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। আমরা অনেক সময়ই একমত হই, আবার এমন সময়ও আসে, যখন মতভেদ হয়। আমার দায়িত্ব ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করা।’ আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এবারের ভোটে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। একই সময় তিনি ইসরায়েলি জনমতের চাপের মুখে রয়েছেন। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অঙ্গীকার নিয়ে ইসরায়েলিদের আস্থা ক্রমেই কমছে। ‘ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানতে বাধ্য নই’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করবে না এবং হিজবুল্লাহর হামলার বিরুদ্ধে ‘পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের স্বাধীনতা’ ধরে রাখবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান চেয়েছিল, আমরা যেন সেখান থেকে সরে যাই, কিন্তু আমরা নিজেদের অবস্থানে দৃঢ়ভাবে রয়েছি।’ এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আবার শুরু হবে, তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনো ঠিক হয়নি। চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যে ৬০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে সেই সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করা হবে। এ সময়ে একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টাও করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময় এর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং তেহরান–সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön