নওগাঁয় গরমে আগেই পেকেছে আম, দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা
নওগাঁর বাজারগুলো ভরে গেছে নানা জাতের আমে। এসব বাজার এখন দিনভর সরগরম থাকছে আম কেনাবেচায়। তবে প্রায় সব জাতের আম অতিরিক্ত গরমে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পেকে গেছে। এ কারণে আমের যথার্থ দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। জেলার সাপাহার আমের বাজার দেশের অন্যতম বড় আমের বাজার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাপাহার সদরে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে ক্যারেটভর্তি করে আম এনেছেন চাষিরা। সাপাহার উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট-গোডাউনপাড়া সড়ক, জিরোপয়েন্ট-তিলনা সড়ক, জিরোপয়েন্ট
নওগাঁর বাজারগুলো ভরে গেছে নানা জাতের আমে। এসব বাজার এখন দিনভর সরগরম থাকছে আম কেনাবেচায়। তবে প্রায় সব জাতের আম অতিরিক্ত গরমে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পেকে গেছে। এ কারণে আমের যথার্থ দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। জেলার সাপাহার আমের বাজার দেশের অন্যতম বড় আমের বাজার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাপাহার সদরে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে ক্যারেটভর্তি করে আম এনেছেন চাষিরা। সাপাহার উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট-গোডাউনপাড়া সড়ক, জিরোপয়েন্ট-তিলনা সড়ক, জিরোপয়েন্ট-হাসপাতাল মোড় সড়ক, জিরোপয়েন্ট-থানা মোড় সড়কসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে বসেছে আমের বাজার। স্থানীয় আমচাষিরা বলেন, ২২ মে গুটি আম ওঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আমের বাজার। গোপালভোগ, হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাতি আম এবং জিআই স্বীকৃতি পাওয়া নওগাঁর নাক ফজলি আম উঠেছে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী ১৫ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারে ওঠার কথা থাকলেও প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে দুই-তিন ধরে স্থানীয় বাজারে আম্রপালি আমের ব্যাপক আমদানি হওয়ায় বাজার জমজমাট হয়ে ওঠে। শুধু আম্রপালি নয়, সময়ের আগেই বাজারে বিক্রি হচ্ছ ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ আম। আমচাষিরা বলছেন, এবার প্রচণ্ড গরমে প্রায় সব আমই প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই পাকতে শুরু করে। গুটি আম ওঠার তিন-চার দিনের মাথায় গোপালভোগ ও ক্ষীরসাপাতি আম বাজারে আসতে শুরু করে। প্রায় একই সময়ে নাক ফজলি ও ল্যাংড়া আমও বাজারে চলে আসে। নওগাঁয় সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া আম্রপালি আম ১৫ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়ের সাত-আট দিন আগে থেকেই গাছে আম পাকা শুরু করে। বাধ্য হয়ে অনেকেই সময়ের আগেই আম্রপালি আম সংগ্রহ করে বাজারে তোলেন। এ ছাড়া সময়সূচি অনুযায়ী ২৫ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো এবং ৫ জুলাই বারি-৪ আম বাজারে আসার কথা। কিন্তু ওই সব আম এখনই পাকতে শুরু করেছে। আম পরিপক্ব হওয়ায় বারি-৪ ও ব্যানানা ম্যাংগো আমও বাজারে তুলছেন চাষিরা। সাপাহার বাজারে কথা হয়, পত্নীতলা উপজেলার দিবর গ্রামের আমচাষি রায়হান আলম, সাপাহার উপজেলার তিলনা গ্রামের জিয়াউর রহমান, নিশ্চিতপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, গরমে এবার সব আম প্রায় একই সময়ে পেকে গেছে। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া আম্রপালি, নাক ফজলি ও বারি-৪ আম প্রায় একই সময়ে বাজারে ওঠে গেছে। শুরুতে দাম ঠিকমতো পেলেও একসঙ্গে প্রচুর আম বাজারে আসতে শুরু করায় দুই-তিন দিন ধরে দরপতন শুরু করে। দুই-তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি মণ আমের দাম ৩০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত কমেছে। গরমের কারণে এর মধ্যেই আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আম তিন ভাগের এক ভাগ পাকার পর পেড়ে ফেলা হয়েছে। আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় সব আম পেকে যাবে। অথচ নওগাঁতে আগস্ট পর্যন্ত আম্রপালি ও বারি-৪ বাজারে পাওয়া যায়। এবার মনে হচ্ছে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সব আম পাড়া হয়ে যাবে। সাপাহার-বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আম্রপালি আম মণপ্রতি ৩ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা, নাক ফজলি আম ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, ল্যাংড়া আম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, ব্যানানা ম্যাংগো ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং বারি-৪ আম ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। তবে এ বাজারে আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ কেজি মণ দরে। কয়েক বছর ধরে এ নিয়ম চলে আসছে। ১০ থেকে ১২ কেজি অতিরিক্ত ওজন নিয়ে আম বেচাবিক্রির এ নিয়মকে আম ব্যবসায়ীরা ‘ঢলতা’ প্রথা বলে থাকেন। এই প্রথার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমচাষিরা। সাপাহার আমচাষি সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশকের দাম এবং সেচ ও শ্রমিকের খরচ বাড়ায় আম উৎপাদনের খরচ বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে পরিবহন খরচও। দাবদাহের প্রভাব তো আছেই। কিন্তু সে অনুযায়ী চাষিরা আমের দাম পাচ্ছে না। সাপাহারে বাজারে যে আম ৬০ টাকা কেজি দরে চাষিরা বিক্রি করছেন। সেই আম নওগাঁ, রাজশাহী কিংবা ঢাকা শহরে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাভের ভাগ অধিকাংশই মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে যাচ্ছে। তার ওপর আড়তদারদের ঢলতা প্রথা চাষিদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। বারবার অভিযোগ করার পরও এই প্রথা বন্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।’ সাপাহার গোডাউনপাড়া এলাকায় বরেন্দ্র অ্যাগ্রো ফার্ম আমবাগানের মালিক সোহেল রানা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে আম্রপালি আম পাড়ছিলেন। এ সময় তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে যে আম্রপালি আম ৪ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। সেই আম এখন বলছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এ জন্য কাঁচা আম পাড়ছি না। যে আমগুলো পেকে গেছে, সেগুলো বেছে বেছে পাড়ছি। দাম উঠলে আম বেশি করে পাড়ব। কিন্তু যে গরম, তাতে করে মনে হচ্ছে না আম বেশি দিন বাগানে রাখতে পারব। সময়ের আগেই এবার আম পেকে যাচ্ছে।’ নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, নওগাঁয় এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে আম আগাম পেকে যাওয়ায় প্রায় সব আম একসঙ্গে বাজারে ওঠায় চাষিরা দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন। এরপরও এবার নওগাঁয় যে পরিমাণ আম উৎপাদন হওয়ার কথা, তাঁর বাজারমূল্য ৩ হাজার কোটি টাকার নিচে হবে না। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে আম চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন।
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →