এআই-ওয়ার্ম চিন্তা বাড়াচ্ছে গবেষকদের: নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়তে পারে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
এআই-ওয়ার্ম চিন্তা বাড়াচ্ছে গবেষকদের: নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়তে পারে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে

ধরুন, এমন একটি নতুন ধরনের ভাইরাস আপনার হাতের স্মার্টফোনে ঢুকে পড়েছে, যেটি নিজে ভাবতে পারে, পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে এবং বাধা পেলে বিকল্প পথ খুঁজে নেয়। এই ভাইরাস ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো যন্ত্রে ঢুকে একই কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। এটি বৈজ্ঞানিক কোনো কল্পকাহিনি নয়, বরং চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত একটি গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল। কানাডার একদল গবেষক সম্প্রতি এমন একটি ম্যালওয়্যার তৈরি করেছেন, যার নাম এআই-ওয়ার্ম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কীট। এই কীট বা ওয়

ধরুন, এমন একটি নতুন ধরনের ভাইরাস আপনার হাতের স্মার্টফোনে ঢুকে পড়েছে, যেটি নিজে ভাবতে পারে, পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে এবং বাধা পেলে বিকল্প পথ খুঁজে নেয়। এই ভাইরাস ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো যন্ত্রে ঢুকে একই কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। এটি বৈজ্ঞানিক কোনো কল্পকাহিনি নয়, বরং চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত একটি গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল। কানাডার একদল গবেষক সম্প্রতি এমন একটি ম্যালওয়্যার তৈরি করেছেন, যার নাম এআই-ওয়ার্ম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কীট। এই কীট বা ওয়ার্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিজে নিজে কোনো কম্পিউটার বা অফিসের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। হামলার প্রতিটি নিশানার জন্য আলাদা আক্রমণকৌশল তৈরি করতে পারে। কানাডার ভেক্টর ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিকোলা প্যাপার্নো গবেষণা প্রকল্পটির উদ্যোগ নেন এবং তত্ত্বাবধান করেন। এআইচালিত এই ওয়ার্ম বিভিন্ন ধরনের ৩৩টি কম্পিউটার–সংবলিত একটি পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে সাত দিনে ৬২ শতাংশ যন্ত্রে কীভাবে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে, তা তাঁদের পরীক্ষায় উঠে এসেছে। কম্পিউটার ওয়ার্ম কী কম্পিউটার ওয়ার্ম হলো একধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা একটি নেটওয়ার্কের এক যন্ত্র থেকে আরেক যন্ত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ‘ওয়ান্নাক্রাই’ ওয়ার্ম ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনে এটি কয়েক লাখ কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ওয়ার্ম যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিয়েছিল। একই বছর বিশ্বজুড়ে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি করেছিল ‘নটপেটিয়া’ নামের আরেকটি ওয়ার্ম। গবেষকদের তৈরি এই এআই-ওয়ার্ম নেটওয়ার্কটির ৭৪ শতাংশ দুর্বলতা শনাক্ত করতে ও ৬২ শতাংশ যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে। এখানে যে দুটি ওয়ার্মের কথা বলা হলো, তাদের বড় একটি সীমাবদ্ধতা ছিল। সেগুলো কোনো যন্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সেগুলোকে আক্রমণ করত। তাই দুর্বলতাগুলো সারিয়ে ফেললে ওয়ার্মের বিস্তার ঠেকানো যেত। কিন্তু এআই–চালিত ওয়ার্মের এমন সীমাবদ্ধতা নেই। তাই এটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি নেটওয়ার্কে এআই-ওয়ার্মের বিস্তারের চিত্র ফুটিয়ে তোলা রেডিয়াল প্রপাগেশন ট্রি বা ছড়িয়ে পড়ার বৃত্তাকার চিত্র কেন এটি নতুন হুমকি গবেষণার জন্য তৈরি করা এআই-ওয়ার্মটি প্রতিটি নতুন যন্ত্রে পৌঁছানোর পর সেটি বিশ্লেষণ করে এবং সেই যন্ত্রের নির্দিষ্ট দুর্বলতা খুঁজে বের করে আক্রমণের কৌশল তৈরি করে। কোনো একটি পথ কাজ না করলে বা বাধা পেলে নতুন উপায় খুঁজে নেয়। এ কারণে কোনো যন্ত্র বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট কোনো দুর্বলতা সারিয়ে ফেললে এআই-ওয়ার্মকে থামানো যাবে, এমনটি ভাবার কারণ নেই। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওয়ার্মটি যখন কোনো শক্তিশালী গ্রাফিকস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে (জিপিইউ) ঢোকে, তখন সেই যন্ত্রের শক্তি ব্যবহার করে নিজের কার্য বা বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ায়। অর্থাৎ আক্রান্ত যন্ত্রগুলো ওয়ার্মের অবকাঠামোতে পরিণত হয়। এতে করে যারা এসব এআই-ওয়ার্ম দিয়ে হামলা শুরু করেছিল, পরবর্তী প্রতিটি নতুন হামলা বা সংক্রমণের জন্য তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হয় না। অন্যদিকে সম্ভাব্য এআই-ওয়ার্মের হামলা থেকে বাঁচতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমাগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হয়েছে। হামলাকারী ও আক্রান্তদের এই অসম অর্থনৈতিক ব্যবধান গবেষকদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। এআই-ওয়ার্মটির একাধিক কপি একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রে আক্রমণ চালাতে পারে এবং একটি কপি কোনো যন্ত্রে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হলে অন্য কপি নতুন কৌশলে সেই যন্ত্রে ঢোকার চেষ্টা করে। যেভাবে কাজ করে এআই-ওয়ার্ম এআই-ওয়ার্মের কাজের পদ্ধতিকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়। প্রথমে এটি নেটওয়ার্কে থাকা যন্ত্রগুলো শনাক্ত করে এবং প্রতিটি যন্ত্রের সেবা, পোর্ট ও অপারেটিং সিস্টেমের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করে এবং সেই অনুযায়ী আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করে। সফলভাবে যন্ত্র দখল করতে পারলে সেখানে নিজের একটি রেপ্লিকা বা কপি স্থাপন করে। নতুন স্বাধীন এনটিটি বা সত্তা হিসেবে সেখান থেকে পরবর্তী যন্ত্র লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে একটি বড় ভাষা মডেল বা এলএলএম মানুষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। আক্রমণ ব্যর্থ হলে ওয়ার্মটি কারণ বিশ্লেষণ করে বিকল্প পথ খোঁজে। একসঙ্গে একাধিক যন্ত্রে আক্রমণ চালিয়ে ব্যর্থ হলে অন্য কপি নতুন কৌশলে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। পরীক্ষার ফলাফল গবেষকেরা লিনাক্স, উইন্ডোজ ও আইওটি—এই তিন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমসহ ৩৩টি যন্ত্রের একটি পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে ওয়ার্মটি ছেড়ে দেন। ১৫টি আলাদা পরীক্ষায় সাত দিনের পৃথক কার্যক্রমে ওয়ার্মটি দৈনিক গড়ে ৩১টি দুর্বলতা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে, ২৩টি যন্ত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দখলে নিতে এবং ২০টি যন্ত্রে নিজের কপি তৈরি করতে সক্ষম হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই এআই-ওয়ার্ম গবেষণার আওতাধীন নেটওয়ার্কটির ৭৪ শতাংশ দুর্বলতা শনাক্ত করতে ও ৬২ শতাংশ যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওয়ার্মটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত তিনটি নতুন নিরাপত্তা দুর্বলতাকেও কাজে লাগাতে পেরেছে। অথচ যে এআই মডেল এই গবেষণায় ব্যবহৃত ওয়ার্মটিকে পরিচালনা করেছে, সেটার পক্ষে তা শনাক্ত করে কাজে লাগাতে পারার কথা নয়। কারণ, ওয়ার্মটির প্রশিক্ষণ ২০২৬ সালের আগেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় গবেষকেরা বলেন, ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে ওয়ার্মটি নতুন দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়েছে। অর্থাৎ নতুন কোনো নিরাপত্তা সমস্যা প্রকাশ্যে আসার কয়েক দিনের মধ্যে এই ধরনের ওয়ার্ম তা শনাক্ত করে কাজে লাগিয়ে আক্রমণ চালাতে পারবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের সুযোগ আরও বেশি সংকুচিত

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön