মোদির লোকেরাই কি সেই রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করলেন, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
মোদির লোকেরাই কি সেই রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করলেন, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে নির্মিত অযোধ্যার রাম মন্দিরে হিন্দু ভক্তদের দেওয়া অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে ভারতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এই রাম মন্দির বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রকল্প। তবে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো মন্দিরের ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি তোপ দেগেছে। বিষয়টি এখন আর শুধু দানবাক্স চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার জালিয়াতির অভিযোগ ত

বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে নির্মিত অযোধ্যার রাম মন্দিরে হিন্দু ভক্তদের দেওয়া অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে ভারতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এই রাম মন্দির বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রকল্প। তবে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো মন্দিরের ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি তোপ দেগেছে। বিষয়টি এখন আর শুধু দানবাক্স চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করার পর এর কড়া সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। সোমবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক যে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির শাসন দুর্নীতিগ্রস্ত। তা না হলে এখানে এসআইটির বদলে আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গড়ে উঠত।’ সমাজবাদী পার্টিই প্রথম রাম মন্দিরে আসা জনসাধারণের দানের টাকা তছরুপের বিষয়টি সামনে আনে। অপরাধীরা খুব দূরে নেই—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারকে রীতিমতো বেকায়দায় ফেলেছেন অখিলেশ যাদব। অভিযোগ তদন্তে পুলিশকে ‘সহায়তা’ করার কথা জানিয়ে তিনি মূলত সরকারকে বড় ধরনের চাপের মুখে রেখেছেন। বছরের পর বছর ধরে বিজেপি দাবি করে আসছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি স্বাধীন ট্রাস্ট রাম মন্দির গঠন করেছে। কিন্তু এখন সেই ট্রাস্টের সদস্যদের সততা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই সদস্যরা সরকারের পছন্দের লোক। ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ এখন সাফাই দিচ্ছে, তারা মন্দিরের দৈনন্দিন কাজ তদারকি করে না। তবে এমন ব্যাখ্যা আর কোনো কাজে আসছে না। উল্টো বিরোধী দলগুলো এখন সরাসরি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকেই আঙুল তুলছে। ‘দৈনিক ভাস্কর’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কংগ্রেস দল এক্সে লিখেছে, মন্দিরের ট্রাস্টের অব্যবস্থাপনায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কংগ্রেস একে ‘আস্থার ডাকাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির পোস্টে বলা হয়, ‘এটি স্পষ্টত মানুষের বিশ্বাস ডাকাতি করার শামিল। কোটি কোটি হিন্দু ভক্তের আবেগ রাম মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই দানের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বিজেপি ও আরএসএসের লোকেরা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করেছে।’ রাম মন্দির ট্রাস্টের সব সদস্য, বিশেষ করে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। আম আদমি পার্টির (আপ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ভারত সরকারই এই ট্রাস্ট গঠন করেছিল। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি তদারকি করে, তাই নরেন্দ্র মোদি এর দায় এড়াতে পারেন না। সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের ৫০ জনের বেশি কর্মচারী দান করা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। ট্রাস্টের মাধ্যমে আগে জমি কেনাবেচা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এসব ঘটনার তদন্ত চেয়ে তিনি বর্তমান ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এখন ‘সৎ ও নিরপেক্ষ সদস্যদের’ নিয়ে নতুন ট্রাস্ট গঠন করা প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো, এই ট্রাস্ট আসলে কতটা স্বাধীন ছিল? ২০২০ সালে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য একটি ‘স্বাধীন ট্রাস্ট’ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রক্রিয়ায় মোদির ভূমিকার কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া ৪০৪ শব্দের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দটি ৪ বার এবং ‘পিএম’ শব্দটি ৯ বার ব্যবহার করা হয়েছিল। ট্রাস্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এর ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনকেই মনোনীত করা হয়েছিল লোকসভায় মোদি ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই এই ট্রাস্টের সদস্যদের নাম ও কাঠামো ঘোষণা করেছিলেন। এই জালিয়াতির অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। কারণ, বিজেপি কয়েক দশক ধরে এই রাম মন্দির প্রকল্প থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে। তারা বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণকে হিন্দুত্ববাদীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবেও প্রচার করে আসছে। দৈনিক ভাস্করের পলিটিক্যাল এডিটর কে পি মালিক এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির খবরটি অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। যদি সত্যিই এত বড় অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন জাগে—এর দায় কে নেবে?’ উদ্বোধনের জন্য সাজানো হয়েছে রামমন্দির। ২১ জানুয়ারি কে পি মালিক এই জালিয়াতির অভিযোগকে হিন্দু বিশ্বাসের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে এর জবাবদিহি চেয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটি বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল যেকোনো মূল্যে একধরনের উগ্র হিন্দুত্ববাদী পরিচয় প্রচার করতে চেয়েছিলেন। সেই পরিচয়ের প্রধান প্রতীক হলো কথিত রাম মন্দির। এখন সেই মন্দিরেই আর্থিক অনিয়মের ছায়া পড়েছে। এটি বিজেপি ও সরকারের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। যে আদর্শকে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তার স্বচ্ছতা নিয়েই এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই জালিয়াতির অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। কারণ, বিজেপি কয়েক দশক ধরে এই রাম মন্দির প্রকল্প থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে। তারা একে হিন্দুদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবেও প্রচার করে আসছে। এখানেই শেষ নয়, রাম মন্দিরের অর্থ তছরুপের প্রতিবাদে অযোধ্যায় এখন তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। গত সোমবার কংগ্রেস নেতা শারদ শুক্লা অযোধ্যা শহরে বিশাল এক হোর্ডিং টানিয়ে দেন। সেখানে রাম মন্দিরের দানবাক্সের টাকা চুরির দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী এই চুরির জন্য কী শাস্তি হওয়া উচিত, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি মূলত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। অথচ এখন সেই রাজ্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগানো পোস

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön