টি-রেক্স ডাইনোসরের হাত ছোট ছিল কেন
ডাইনোসর সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারি হিসেবে পরিচিত টি-রেক্স বা টিরানোসরাস রেক্স। সিনেমায় এই অতিকায় ডাইনোসরকে আমরা যতই হিংস্ররূপে দেখি না কেন, এর বিশাল শরীরের সঙ্গে মানানসই নয়, এমন দুটি ছোট হাত নিয়ে কৌতুকেরও কমতি নেই। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বিবর্তনের ধারায় টি-রেক্সের হাত দুটি তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। তবে এর পেছনে মূল কারণ নিয়ে বিতর্কের শেষ ছিল না। অবশেষে লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজ ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণায় টি-রেক্স ডাইনোসরের ছোট হা
ডাইনোসর সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারি হিসেবে পরিচিত টি-রেক্স বা টিরানোসরাস রেক্স। সিনেমায় এই অতিকায় ডাইনোসরকে আমরা যতই হিংস্ররূপে দেখি না কেন, এর বিশাল শরীরের সঙ্গে মানানসই নয়, এমন দুটি ছোট হাত নিয়ে কৌতুকেরও কমতি নেই। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বিবর্তনের ধারায় টি-রেক্সের হাত দুটি তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। তবে এর পেছনে মূল কারণ নিয়ে বিতর্কের শেষ ছিল না। অবশেষে লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজ ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণায় টি-রেক্স ডাইনোসরের ছোট হাতের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটি বিবর্তনের কোনো আকস্মিক ভুল ছিল না, শরীরের অন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের শক্তি বাড়াতে গিয়ে হাত দুটিকে বিসর্জন দিতে হয়েছিল। ৮২ প্রজাতির থেরোপড বা দুই পায়ে হাঁটা মাংসাশী ডাইনোসর নিয়ে পারিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, টি-রেক্স ডাইনোসরের মাথার খুলি এবং চোয়াল যত বড় ও শক্তিশালী হয়েছে, তাদের হাতগুলো ঠিক ততটাই ছোট হয়ে এসেছে। অর্থাৎ, টি-রেক্স ডাইনোসরের হাত ছোট হওয়ার পেছনে তাদের পুরো শরীরের আকারের চেয়ে মাথার খুলির বিকাশের সম্পর্ক বেশি ছিল। বৈজ্ঞানিক সাময়িকী প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, টি-রেক্স ডাইনোসর শুধু আকারে বড় হয়েছিল বলেই হাত দুটো ছোট রয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। বিবর্তনের ধারায় এই শিকারি ডাইনোসরগুলো নখের চেয়ে তাদের শক্তিশালী মাথা ও চোয়ালকে আক্রমণের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। যেহেতু শিকারের জন্য হাতের ব্যবহার কমে গিয়েছিল, তাই যুগের পর যুগ ধরে অব্যবহারের ফলে হাতগুলো সংকুচিত হতে থাকে। অন্যদিকে বিশাল শরীরের বিপরীতে চোয়াল হয়ে ওঠে দানবীয়। গবেষণার প্রধান লেখক চার্লি রজার শেরার জানিয়েছেন, আক্রমণের পদ্ধতি হিসেবে হাতের কাজগুলো একসময় মাথা একাই কেড়ে নেয়। এ ধরনের বিবর্তনীয় পরিবর্তন সাধারণত এমন অঞ্চলে বেশি দেখা যেত, যেখানে শিকারগুলো হতো অতিকায়। আপনার নখ দিয়ে ১০০ ফুট লম্বা কোনো সায়রোপড (বিশাল আকৃতির তৃণভোজী ডাইনোসর) টেনে ধরার চেষ্টা করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তার চেয়ে চোয়াল দিয়ে কামড়ে ধরা এবং আটকে রাখাই ছিল সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। সূত্র: সায়েন্স ফোকাস
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →