পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 2 saat önce
পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে

রণবীর সমাদ্দার ভারতের খ্যাতনামা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলো র পক্ষ থেকে তাঁর এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় ৩ জুন। এতে এসেছে বহুল আলোচিত ককরোচ পার্টির প্রসঙ্গও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলতাফ পারভেজ , স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য ও মাজহার জীবন । পশ্চিমবঙ্গের ভোট বাংলাদেশকে বেশ নাড়া দিয়েছে। এই ফল কি এই রাজ্যে সমাজজীবনের বড় কোনো মোড়বদল, নাকি গতানুগতিক এক দলের বদলে আরেক দলের আসা? রণবীর সমাদ্দার : ফলাফলে একটা বিস্ময় নিশ্চয়ই তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বল

রণবীর সমাদ্দার ভারতের খ্যাতনামা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলো র পক্ষ থেকে তাঁর এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় ৩ জুন। এতে এসেছে বহুল আলোচিত ককরোচ পার্টির প্রসঙ্গও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলতাফ পারভেজ , স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য ও মাজহার জীবন । পশ্চিমবঙ্গের ভোট বাংলাদেশকে বেশ নাড়া দিয়েছে। এই ফল কি এই রাজ্যে সমাজজীবনের বড় কোনো মোড়বদল, নাকি গতানুগতিক এক দলের বদলে আরেক দলের আসা? রণবীর সমাদ্দার : ফলাফলে একটা বিস্ময় নিশ্চয়ই তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এ রকমই হওয়ার কথা ছিল। তবে এঁরা কেউ আগে সেটা বলেননি, এখন বলছেন। সমাজে অবশ্যই বিস্ময় ও আকস্মিকতা আছে ফল নিয়ে। লোকে এর উত্তর খুঁজছেন। পরিবর্তনের গভীরতা বুঝতে চাইছেন। আসলে সমাজের ভেতর যেসব পরিবর্তন আগে থেকে হচ্ছিল, তার একটা যুক্তিসংগত পরিণতিই বোধ হয় হলো। এটা সমাজের ভেতরে অনেক দিন ধরে চলমান কিছু মৌলিক পরিবর্তনের ফল। সংঘবদ্ধ কৃষিসমাজ ও শিল্পব্যবস্থার ভাঙনেরও ফল এটা। ভাসমান শ্রমিকেরা এখন বড় এক জনগোষ্ঠী। কৃষি ও শিল্পে পুরোনো কাঠামোগত ধরন আর নেই। বিপুলসংখ্যায় অসংগঠিত আধা সর্বহারাদের রাজ্য এখন পশ্চিমবঙ্গ। এই পরিবর্তন কেবল মতাদর্শ দিয়ে ধরা যাচ্ছে না। নতুন শাসকেরা নতুন এই সামাজিক বিন্যাসে কর্তৃত্ববাদ, জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করছে। সঙ্গে ব্যাপকভাবে জুড়ে নেওয়া হয়েছে ধর্ম। ক্ষমতা শেষমেশ এদের হাতে চলে এল। ফলে এর মধ্যে আকস্মিকতা আছে, আবার নেইও। এর সঙ্গে নির্বাচনে আমলতন্ত্র, বিভিন্ন বাহিনী, এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের প্রবল ভূমিকা তো ছিলই। নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতার ভূমিকা কতটা ছিল? রণবীর সমাদ্দার : সাম্প্রদায়িকতার ভূমিকা আছে। ‘সনাতনী জাতীয়তাবাদ’–এর একটা চাপ তো ছিলই। তবে সেটা অন্য প্রবণতাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে, যেসব প্রবণতার কথা আগে বললাম। ধর্মীয় মেরুকরণ একটা ঘটেছে, কিন্তু অনেকগুলো ফ্যাক্টর একসঙ্গে মিশে পরিবর্তনটা হলো। সেসব সম্মিলিত শক্তি ও উপাদানের মোকাবিলায় অন্যরা ছিল দুর্বল। শুধু সাম্প্রদায়িকতায় পরিবর্তন হলে আগের নির্বাচনেই হতো। এবার অনেকগুলো উপাদানের সঙ্গে বিজেপির প্রচারের জোরও ছিল অনেক শক্তিশালী। দুই সীমান্তে গেরুয়া চাপে পড়ল বাংলাদেশ এবারের নির্বাচনে কর্তৃত্ববাদী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের বিস্তারের কথা বললেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন এঁদেরও রাজ্য। তাহলে এটাকে একটা মোড়বদল বলতেই পারি আমরা। রণবীর সমাদ্দার : আমরা এখন দেখছি রাজনৈতিক পরিবর্তনটা; কিন্তু সামাজিক পরিবর্তন তো ঘটছিলই। সেটা শুরুতে বলেছি। তা ছাড়া বাংলা কিংবা যুক্ত বাংলার ইতিহাস যদি দেখি, এটা সমন্বয়বাদীদের পাশাপাশি বহু দাঙ্গারও জায়গা। কলকাতায় কি ভয়াবহ দাঙ্গা হয়নি? দেশভাগের সেই কুখ্যাত দাঙ্গায় সরকারি হিসাবেই তো প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এখনো কি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা হয় না? সবই তো আমাদের ‘ঐতিহ্য’। আমরা বাংলায় এসব পরম্পরার মধ্যেই আছি। আমরা অনেক সময় চোখ বুজে থাকি। রাজনীতির একটা ভদ্রলোকি চেহারা গেঁথেছিল আমাদের মধ্যে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, রামকৃষ্ণ—সবই নিশ্চয়ই আমাদের। হ্যাঁ, অন্য ধর্মকে হয়তো ধাক্কা মেরে সরানো হয়নি এখানে, কিন্তু উল্টোটাও তো ছিল এবং আছে। গত শতাব্দীগুলোর বাংলার জ্ঞানালোকের প্রতীকদের সামনে বাঁ পাশে রাখলেও ‘ভদ্রলোক সমাজ’ সেটাকে গণসংস্কৃতি করতে পারল বলে মনে হচ্ছে না। তারও প্রকাশ এই ফল। আগে বাংলার জাতীয়তাবাদ উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যে চরিত্রের ছিল, এখনকার জাতীয়তাবাদ তার চেয়ে ভিন্ন। এটা অনেক বেশি জাতিবাদী, রাষ্ট্রবাদী এবং ধর্মমিশ্রিত এই জাতীয়তাবাদ। নিচুতলার মানুষ এই ‘পরিচয়’কে ধারণ করে নিচ্ছে। খেয়াল করে দেখুন, সমাজের মধ্যে দরিদ্র সমাজের চাওয়া-পাওয়াকে ধর্মীয় আবরণ পরানো হচ্ছে কতটা। এই নতুন রাজনীতির পদাতিক বাহিনী কিন্তু নিচুতলার মানুষও। এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎ সামাজিক ফলাফল কী হতে পারে? রণবীর সমাদ্দার : অসংগঠিত বিপুল মানুষের নতুন এক মতাদর্শের দিকে যাত্রা ঘটছে বলতে পারেন। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গকে কাঠামোগতভাবে পুনর্গঠিত করার একটা আয়োজনও হতে পারে। আইন, শাসন, বড় শিল্প ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সেসব চেষ্টা হতে পারে। নতুন শাসকগোষ্ঠী সেসব বিষয়ে কতটা সফল হবে, সেটা এখনই বলা যাবে না। নতুন শাসকেরা যেটা বারবার বলছে, পশ্চিমবঙ্গের অসংগঠিত চেহারা পাল্টাতে হবে, সেটায় তারা কিছু তো করতে চাইবে। একটা কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ, একচেটিয়াত্ব, কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিকতা—এসব আসবে। সীমান্তে কেন মানবিক বিপর্যয়ের এই দৃশ্য পশ্চিমবঙ্গসহ বিশের অধিক রাজ্যে বিজেপি বা তাদের জোট ক্ষমতায়। তাহলে কি বলা যায়, ২০২৯–এর লোকসভা নির্বাচনেও তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি। ২০৩৫ পর্যন্ত তারাই থাকছে? রণবীর সমাদ্দার: তাদের যে জোর দেখা যাচ্ছে, তাতে আপনারা সে রকম ভাবতে পারেন। অসংগত ভাবনা নয় এটা। তবে সব পরিবর্তন জানিয়ে হয় না। অনুমান করা পথে হয় না। পরিবর্তনের কাছাকাছি শক্তি বিজেপিবিরোধীদেরও আছে। সামনে একসঙ্গে প্রাদেশিক ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা উঠছে। বিরোধীরা সেসব কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা দেখা দরকার। তবে এখনকার শক্তির সমীকরণে আজকের শাসকদের পরাস্ত করা কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের এই যে নির্বাচনী ফল, এটা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব রাখবে বলে আপনার অনুমান? সীমান্তে ইতিমধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। রণবীর সমাদ্দার : প্রভাব-প্রতিক্রিয়া তো হবেই। বড় আকারে হবে। প্রতিটি দেশের নির্বাচনের প্রভাব পাশের দেশে পড়ে। বাংলাদেশের ২০২৪–এর পরিবর্তনের প্রভাবও পড়েছে এখানে। বড় দেশ হিসেবে ভারতে পরিবর্তনের প্রভাব হয়তো আশপাশে বেশি পড়ে। এ রকম প্রভাব শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, আরও নানান ক্ষেত্রে পড়ে ও পড়বে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়বে বৈকি। খারাপ যেটা ঘটবে, সব জায়গায় সংখ্যালঘুদের নিজেদের প্রমাণ করতে হবে তারা দেশকে ভালোবা

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön