যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সই হলেই তেল বিক্রি করতে পারবে ইরান
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া মাত্র ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে, যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। সেই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ সপ্তাহে চুক্তি সই হলেই ইরানের তেল বিক্রির ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে। শুধু তা-ই নয়, তেল বিক্রি সহজ করতে ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমাসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোও এর আওতায় আনা হবে। খবর রয়টার্স। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া মাত্র ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে, যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। সেই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ সপ্তাহে চুক্তি সই হলেই ইরানের তেল বিক্রির ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে। শুধু তা-ই নয়, তেল বিক্রি সহজ করতে ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমাসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোও এর আওতায় আনা হবে। খবর রয়টার্স। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ সমঝোতায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি মানলে তবেই ইরান এসব সুবিধা পাবে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় করা ও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচলে বাধা না দেওয়া। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে। নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন এই পদক্ষেপকে ইরানের জন্য ‘অনেক বিলিয়ন ডলারের বড় ছাড়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এরিকসনের ভাষায়, ‘কয়েক মাসের অবরোধমূলক চাপের পর ওয়াশিংটন এখন তেহরানকে এমন আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে, যেসব সুবিধা পরে ফিরিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত আটকে রেখেছিল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও কার্যত এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরিকসনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মজুত ও ট্যাংকারে বর্তমানে ১০ কোটির বেশি ব্যারেল তেল আছে। এর মধ্যে ৬ কোটির বেশি ব্যারেল যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সীমার বাইরে আছে; এই তেল সহজেই বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। সারা বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহৃত হয়। গত রোববার রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের ওপর তেল-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। ফলে তেহরান তেল বিক্রি করে আয় করতে পারবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও এতে রাখা হয়েছে। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম জানায়, চুক্তি সই হওয়ার পরপরই ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার আমেরিকা ও ইরান ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে এই চুক্তিতে সই করেছে। চলতি সপ্তাহেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। এই চুক্তির ফলে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে বিরতি আসবে। হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন ও ইরানি অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। সেই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে বিস্তারিত আলোচনার পথ তৈরি হবে। ৩০০ বিলিয়নের তহবিল রয়টার্সের আরেক সংবাদে বলা হয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানে বিনিয়োগ বাড়াতে ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এ তহবিলের অর্ধেকের বেশি অর্থ জোগানের প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। চুক্তি সম্পর্কে সরাসরি অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করতে উভয় পক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে উৎসাহিত করা।
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →