বালারাতে বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত ঈদ পুনর্মিলনী
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বালারাত শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগঠন বালারাত বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেডের (বিবিএআই) উদ্যোগে ৬ জুন ব্রাউন হিল কমিউনিটি হলে প্রাণবন্ত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হলো। নবগঠিত কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩০ জন বাংলাদেশি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মাল্টিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ও বালারাত সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য। বিকেল ৪টা ৩০ থেকে অতিথিদের আগমন শুরু হয়। হলে যখন চলছিল
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বালারাত শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগঠন বালারাত বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেডের (বিবিএআই) উদ্যোগে ৬ জুন ব্রাউন হিল কমিউনিটি হলে প্রাণবন্ত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হলো। নবগঠিত কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩০ জন বাংলাদেশি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মাল্টিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ও বালারাত সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য। বিকেল ৪টা ৩০ থেকে অতিথিদের আগমন শুরু হয়। হলে যখন চলছিল বাংলা গান, অতিথিরা মেতে ছিলেন আড্ডায়, সঙ্গে উপভোগ করছিলেন হালকা নাশতা ও চা। একটি ছোট্ট শিশুর কোরআন তিলাওয়াত ও তরজমার মাধ্যমে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এরপর থাকে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘অ্যাকনলেজমেন্ট অব কান্ট্রি’ পাঠ এবং পরিবেশিত হয় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত। নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেওয়া হয়। অতিথিরা তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তব্য পর্ব শেষে নবগঠিত কমিটির সদস্য ও অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়। ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে থাকে ছোট শিশুদের পরিবেশনায় একক ও দ্বৈত নৃত্য এবং দুটি কবিতা আবৃত্তি। নতুন প্রজন্মের ছয়জন বিতার্কিক ও দুজন সঞ্চালকের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত রম্য বিতর্ক দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস, মেধা ও সাংস্কৃতিক চর্চা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়। প্রথম পর্বের আরেকটি আকর্ষণ ছিল প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী এক মনোমুগ্ধকর ম্যাজিক শো। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও উপভোগ করেন জাদুর নান্দনিক পরিবেশনা। পরে নারী ও পুরুষদের অংশগ্রহণে ‘পিলো পাসিং’ ও ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। হাসি-আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো মিলনায়তন। নৈশভোজে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। মেন্যুতে ছিল সাদা পোলাও, চিকেন রোস্ট, খাসির রেজালা, বোরহানি, সবজি, চিকেন শামি কাবাব, সালাদ এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে চিকেন-৬৫। অতিথিরা খাবারের স্বাদ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। নৈশভোজের পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। বালারাতের বাংলাদেশি শিল্পীর কণ্ঠে পরিবেশিত কারাওকে গান দিয়ে এ পর্বের সূচনা হয়। এরপর কবিতা আবৃত্তি করেন একজন মা, যিনি সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বালারাতে এসেছেন ছেলে ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। আর সেই কবিতাটি ছিল নিজের লেখা বই থেকে নেওয়া। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের কিংবদন্তি রক সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করে আয়োজিত একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব। তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবেশিত হয় জনপ্রিয় গান ও স্মৃতিচারণা—‘কথায় ও সুরে আইয়ুব বাচ্চু’। পরে বালারাতের আরেকজন জনপ্রিয় শিল্পী একটি বাংলা গান পরিবেশন করেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির দুই শিল্পীর অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত ম্যাশআপ কারাওকে পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপক আনন্দ দেয়। সেখানে ছিল আশি-নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ডের জনপ্রিয় আটটি গান। গান শুনতে শুনতে অতিথিরা উপভোগ করেন দুই রকমের মিষ্টি আর দই। একই সময় শিশু–কিশোরেরা উপভোগ করছিল এক বাঙালি দম্পতির বানানো বিশেষ পপকর্ন। তারপর নবগঠিত কমিটির দুই সদস্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কমিউনিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এই অনুষ্ঠান আয়োজনে বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। রাতের শেষ আকর্ষণ ছিল বহুল প্রতীক্ষিত র্যাফল ড্র। বিজয়ীদের মধ্যে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। পুরো অনুষ্ঠানটির স্মৃতি ফটো ও ভিডিওতে ধরে রাখেন বালারাতের দুজন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার। আর মূল অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সবার পরিচিত, বালারাতের পূর্ববর্তী ও বর্তমান কমিটির দুজন সদস্য। দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected] প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝেও বালারাতের বাংলাদেশিরা সারা বছর ঈদ, দুর্গাপূজা, পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে লালন করে চলেছেন। এবারের ঈদ পুনর্মিলনীও ছিল সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক অনন্য উদ্যাপন। হাসি, আনন্দ, গান, কবিতা আর মিলনের আবহে মুখরিত এ সন্ধ্যা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বালারাতের বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে।
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →