যুক্তরাষ্ট্র–চীন: দুই পরাশক্তির বিশ্বে বাংলাদেশ কী করবে

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 2 saat önce
যুক্তরাষ্ট্র–চীন: দুই পরাশক্তির বিশ্বে বাংলাদেশ কী করবে

দুই পরাশক্তি থেকে সমদূরত্ব নয়, বরং ‘সমবন্ধুত্বই’ হওয়া উচিত আমাদের মূল নীতি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় পক্ষ থেকেই আমাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু পাওয়ার আছে। লিখেছেন সফিকুর রহমান ১০ জুন নিউইয়র্ক টাইমসে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এডওয়ার্ড ওং লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন চীনের সঙ্গে একাধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা থেকে সরে এসে একটি ‘গঠনমূলক ভারসাম্যমূলক’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্যভাবে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতের জন্য দুই পরাশক্তির

দুই পরাশক্তি থেকে সমদূরত্ব নয়, বরং ‘সমবন্ধুত্বই’ হওয়া উচিত আমাদের মূল নীতি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় পক্ষ থেকেই আমাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু পাওয়ার আছে। লিখেছেন সফিকুর রহমান ১০ জুন নিউইয়র্ক টাইমসে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এডওয়ার্ড ওং লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন চীনের সঙ্গে একাধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা থেকে সরে এসে একটি ‘গঠনমূলক ভারসাম্যমূলক’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্যভাবে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতের জন্য দুই পরাশক্তির ‘জি-২’(গ্রুপ অব টু) বিশ্বনেতৃত্বকে মেনে নিয়েছে। চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ কয়েক মাস ধরে আলোচিত হলেও মে মাসে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর থেকে তা আরও বেগবান হয়েছে। সেই বৈঠকের উদ্বোধনী সভায় প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বক্তব্যের একটি অংশ সারা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সি চিন পিং বলেন, ‘আজকে পৃথিবী একটি যুগসন্ধিক্ষণে উপস্থিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কি তথাকথিত সেই থুসিডিডিস ফাঁদ এড়িয়ে বৃহৎ শক্তি সম্পর্কের একটি নতুন সমীকরণ গড়তে পারবে?’ সফিকুর রহমান গত বছরের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার আকাশযুদ্ধের ফলাফল দেখিয়েছে যে চীনা সামরিক প্রযুক্তি এখন পশ্চিমের প্রযুক্তির চেয়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা—দুটোই আমাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্ষুদ্রতর শক্তি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া এবং সর্বোপরি সার্বভৌমত্বই ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বক্তব্যটি আলোড়ন তোলে কারণ, প্রায় দেড় দশক ধরেই ‘থুসিডিডিস ফাঁদ’ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বহুল আলোচিত বিষয়। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডিডিসই প্রথম কোনো রকম নৈতিক বা দৈব ব্যাখ্যা ছাড়াই সম্পূর্ণ বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। থুসিডিডিসের বিখ্যাত রচনা ‘পেলোপনেসীয় যুদ্ধের ইতিহাস’–এ তিনি এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যকার প্রায় তিন দশক ধরে (খ্রিষ্টপূর্ব: ৪৩১ থেকে ৪০৪) চলমান যুদ্ধের বর্ণনা দেন। থুসিডিডিস নিজেও এই যুদ্ধে একজন এথেনীয় সেনাপতি ছিলেন। সেই সময়ে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে স্পার্টা ছিল গ্রিসের মূল ভূখণ্ড পেলোপনেসের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী নগররাষ্ট্র। অন্যদিকে শক্তিশালী নৌবাহিনী, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সমুদ্র–উপকূলে উপনিবেশ স্থাপনের সুবাদে বন্দরনগরী এথেন্স ছিল এক উদীয়মান শক্তি। থুসিডিডিসের ইতিহাস বর্ণনার অন্যতম প্রতিপাদ্য ছিল, উদীয়মান এথেন্সের কাছে আধিপত্য হারানো এবং নিরাপত্তাঝুঁকিই স্পার্টা ও এথেন্সের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য করে তোলে। প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর সব গ্রিক রাষ্ট্রের একসময়ের সাধারণ শত্রু পারস্য সাম্রাজ্যের সহযোগিতায় স্পার্টা এথেন্সকে সম্পূর্ণ পরাভূত করতে সক্ষম হয়। বর্তমান সময়ে থুসিডিডিস ফাঁদ ধারণাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে প্রবর্তন ও জনপ্রিয় করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রাহাম এলিসন। তিনি ২০১২ সালের একটি প্রবন্ধে, পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে একটি বইতে এই ধারণার ব্যাখ্যা করেন। তিনি ইতিহাস থেকে ১৬টি পরাশক্তি দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করে দেখান যে উদীয়মান ও বিরাজমান শক্তিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অধিকাংশ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হলো, ‘সিকিউরিটি ডিলেমা’ বা নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। দ্বন্দ্বমুখী দুই শক্তি বা জোট মনে করে তাদের নিরাপত্তা ও প্রভাব ঝুঁকির সম্মুখীন। ঝুঁকি কমাতে তারা আরও সামরিক ও বেসামরিক শক্তি সঞ্চয় করে, যা দিন শেষে উল্টো ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এলিসনের বিশ্লেষণে অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে, বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে উদীয়মান জার্মানির ক্রমে শক্তি বৃদ্ধি কীভাবে বিরাজমান পরাশক্তি জোট ব্রিটেন-ফ্রান্স-রাশিয়ার সঙ্গে দুটো বিশ্বযুদ্ধের পথে নিয়ে গিয়েছিল। এলিসনের মতে, বর্তমান আধিপত্য বিস্তারকারী পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও উদীয়মান পরাশক্তি চীনের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব একটি ধ্রুপদি ‘থুসিডিডিস ফাঁদ’-এর সূচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘থুসিডিডিস ফাঁদ’–এর আশঙ্কা এলিসনের লেখার পর থেকেই চীনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিশ্লেষক মহলে ব্যাপক আলোচিত হয়। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরেই ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সামনে এক বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে থুসিডিডিস ফাঁদ এড়াতে।’ গত মাসের বক্তব্যের আগেও তিনি ২০১৫, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে এই ফাঁদ বিষয়ে জনসমক্ষে কথা বলেছেন। ২. গত তিন দশকে চীনের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, সামরিক শক্তির উত্থান ধ্রুপদি ‘থুসিডিডিস ফাঁদ’ সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৫ সালে পৃথিবীর সর্বমোট বার্ষিক উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ হতো চীনে, ২০২৫ সালে তা উন্নীত হয় ২০ শতাংশে। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৩০ বছরে ২৮ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ইউরোপের তুলনামূলক অবনমন হয়েছে আরও অনেক বেশি। ৩০ বছর আগে চীন ছিল সস্তা শ্রম ও সহজ ঠুনকো প্রযুক্তির বৃহৎ উৎস। মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিবেদনে এসেছে, বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ৬৪টি প্রযুক্তির মধ্যে ৫৭টিতেই চীন শীর্ষে রয়েছে অথবা শীর্ষের সমকক্ষ। দুই দশক আগেও চীন মাত্র তিনটি প্রযুক্তিতে এগিয়ে ছিল। গত বছরের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার আকাশযুদ্ধের ফলাফল দেখিয়েছে যে চীনা সামরিক প্রযুক্তি এখন পশ্চিমের প্রযুক্তির চেয়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। এ ছাড়া চলমান ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে চীনের তৈরি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক এফ-৩৫ বিমান ঘায়েল করার ঘটনাটি আবারও চীনা প্রযুক্তির অভাবনীয় উল্লম্ফনের বিষয়টি তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জোটের প্রভাববলয়ের রাজনীতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পশ্চাদপসরণ লক্ষণীয়। জোটসঙ্গীদের অগ্র

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön