বক্স অফিসে ৬০০ কোটির ঝড়, রাম চরণ ও সুরিয়ার জাদুতে স্বস্তি
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে গত কয়েক মাস যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। বড় তারকার ছবি আসছে, মুক্তি পাচ্ছে, কিন্তু দর্শক আর আগের মতো ভিড় করছেন না প্রেক্ষাগৃহে। খালি আসন, হতাশ পরিবেশক, দুশ্চিন্তায় হলমালিক—এটাই ছিল বাস্তবতা। ঠিক এমন সময় মুক্তি পেল সুরিয়ার ‘কারুপ্পু’ ও রাম চরণের ‘পেড্ডি’। দুটি ছবিই শুধু বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, দক্ষিণ ভারতের সিনেমা ব্যবসায় নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে। সম্প্রতি দুই ছবির সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় ৬০০ কোটি রুপির গণ্ডি পেরিয়েছে। সংখ্যাটি শুধু একটি বাণিজ্যিক অর্জন
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে গত কয়েক মাস যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। বড় তারকার ছবি আসছে, মুক্তি পাচ্ছে, কিন্তু দর্শক আর আগের মতো ভিড় করছেন না প্রেক্ষাগৃহে। খালি আসন, হতাশ পরিবেশক, দুশ্চিন্তায় হলমালিক—এটাই ছিল বাস্তবতা। ঠিক এমন সময় মুক্তি পেল সুরিয়ার ‘কারুপ্পু’ ও রাম চরণের ‘পেড্ডি’। দুটি ছবিই শুধু বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, দক্ষিণ ভারতের সিনেমা ব্যবসায় নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে। সম্প্রতি দুই ছবির সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় ৬০০ কোটি রুপির গণ্ডি পেরিয়েছে। সংখ্যাটি শুধু একটি বাণিজ্যিক অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের হতাশার মধ্যে শিল্পটির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘ মন্দার পর স্বস্তির নিশ্বাস ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে দক্ষিণ ভারতের সিনেমা বাজার খুব একটা ভালো সময় পার করছিল না। কয়েকটি বড় বাজেটের ছবি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মাঝারি বাজেটের ছবিগুলোও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দ্রুত আগমন ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের সময়সীমা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানার অনেক একক-স্ক্রিন হল বন্ধ হয়ে যায়। প্রেক্ষাগৃহ মালিকেরা অপেক্ষায় ছিলেন এমন কোনো ছবির, যা আবার দর্শকদের হলমুখী করবে। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায় ‘কারুপ্পু’ ও ‘পেড্ডি’। ‘কারুপ্পু’ সিনেমার পোস্টারে সুরিয়া ও তৃষা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে সুরিয়ার প্রত্যাবর্তনের গল্প সুরিয়ার ‘কারুপ্পু’ মুক্তির আগেই ব্যাপক আলোচনায় ছিল। ভক্তদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, ধর্মীয় আবহ, বাণিজ্যিক উপাদান ও তারকাখ্যাতি—সব মিলিয়ে ছবিটি হয়ে ওঠে একটি বড় ইভেন্ট। মিশ্র সমালোচনা সত্ত্বেও ছবিটি সপ্তাহের পর সপ্তাহ দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম হয়। শুধু উদ্বোধনী দিনের সাফল্য নয়, ধারাবাহিকভাবে দর্শক টেনে নেওয়াই ছবিটির সবচেয়ে বড় অর্জন। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারভিত্তিক দর্শকদের উপস্থিতি তামিলনাড়ুর প্রেক্ষাগৃহগুলোকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে। রাম চরণের ‘পেড্ডি’ বদলে দিল সমীকরণ অন্যদিকে তেলেগু চলচ্চিত্র অঙ্গনে পেড্ডি যেন এক ঝড়ের নাম। পরিচয়সংকট, সামাজিক বৈষম্য ও ন্যায়বিচারের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত ক্রীড়াভিত্তিক এই ছবি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ছবিটির কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাম চরণের অভিনয় ও গল্পের আবেগ দর্শকদের মন জয় করে। বিশেষ করে একক-স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ছবিটির সাফল্য ব্যবসায়ীদের জন্য আশার আলো হয়ে আসে। শুধু আয় নয়, ফিরেছে আস্থা দুটি ছবির ৬০০ কোটির বেশি আয় নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সাফল্য শিল্পের মানুষের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরিয়েছে। পরিবেশকেরা এখন জানেন, ভালো ছবি হলে দর্শক এখনো হলে আসতে প্রস্তুত। হলমালিকেরা অন্তত কয়েক মাসের খরচ মেটানোর নিশ্চয়তা পেয়েছেন। নির্মাতারাও বুঝেছেন, বড় পর্দার জাদু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবী ও রামচরণ। আইএমডিবি লাভবান হবে ছোট ছবিও বড় ছবির সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রভাব ছোট ও মাঝারি বাজেটের ছবিগুলোর ওপর। যখন দর্শক আবার সিনেমা হলে যাওয়ার অভ্যাসে ফিরে আসে, তখন পরবর্তী ছবিগুলোর জন্যও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। ‘কারুপ্পু’ ও ‘পেড্ডি’ সেই কাজটাই করেছে। তারা শুধু নিজেদের জন্য ব্যবসা আনেনি, বরং সামনের মাসগুলোতে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বহু ছবির জন্যও পথ কিছুটা মসৃণ করে দিয়েছে। অশালীন উপস্থাপনা থেকে বেফাঁস মন্তব্য, বারবার বিতর্কে জাহ্নবী সব সমস্যার সমাধান নয় তবে এই সাফল্যকে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সব সমস্যার সমাধান ভাবার সুযোগ নেই। ওটিটির প্রভাব, টিকিটের উচ্চমূল্য, নিয়মিত বড় মাপের ছবির অভাব—এসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। তারপরও ‘কারুপ্পু’ ও ‘পেড্ডি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—দর্শক হারিয়ে যায়নি। তারা এখনো আছে, শুধু এমন ছবির অপেক্ষায় থাকে, যা তাদের ঘর থেকে বের করে সিনেমা হলে নিয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য এ মুহূর্তে এর চেয়ে বড় সুখবর আর কিছু হতে পারে না। ৬০০ কোটি রুপির এই সাফল্য তাই কেবল দুটি ছবির নয়, পুরো শিল্পের জন্যই নতুন আশার গল্প। ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →