‘জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নির্যাতন করা হতো’

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 4 saat önce
‘জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নির্যাতন করা হতো’

‘জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত’, এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হতো বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী তাজুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার এই জবানবন্দি দেন তাজুল ইসলাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে তিনি এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম নিজেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মী বলে উল্লেখ করেন। তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বর্তমান

‘জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত’, এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হতো বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী তাজুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার এই জবানবন্দি দেন তাজুল ইসলাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে তিনি এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম নিজেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মী বলে উল্লেখ করেন। তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বর্তমানে কৃষিকাজ করেন। একসময় মানিকগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জুলুম-নির্যাতনসহ হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে গণহত্যা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। এ কারণে তাঁকে গুম করা হয়। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর রাতে মানিকগঞ্জের মাদ্রাসাটি থেকে তাঁকে গুম করা হয়। যেখানে গুম করে রাখা হয়, সেখানকার একটি কক্ষে তাঁকে কোনো কোনো দিন দুই-তিনবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। প্রথম চার মাসে তাঁকে ২০-২৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। একবার জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে তাঁকে একটি চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন মিলে লাঠি দিয়ে পেটান। জিজ্ঞাসাবাদে সব সময়ই তাঁকে নির্যাতন করা হতো। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে কয়েকজনের নাম সম্পর্কে জানতে চাইত। তিনি জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো। জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এক বছরের বেশি গুম করে রাখার পর ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি ও নাজিম উদ্দিন নামের আরেকজনকে গাড়িতে তোলা হয়। তাঁদের চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানার কর্নেল হাট এলাকায় সানজিদা এন্টারপ্রাইজের সামনে গাড়ি থেকে নামানো হয়। অস্ত্র উদ্ধারের একটি নাটক সাজিয়ে আবার তাঁদের গাড়িতে তোলা হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট গাড়ি চলার পর একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে গাড়িটি থামে। তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দোতলার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে তিনি আরও কয়েকজনকে দেখেন। তিন থেকে চার ঘণ্টা জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে বাড়ি থেকে বের করে তাঁদের সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। তাঁদের র‍্যাব-৭-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে তাঁদের আকবর শাহ থানায় সোপর্দ করা হয়। তাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের কোর্টে ওঠানো হয়। কোর্ট থেকে জেলে পাঠানো হয়। জেলে থাকা অবস্থায় দুই দফায় তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিন দিন পুলিশি হেফাজতে, তিন দিন র‍্যাবের হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়া হয়। জঙ্গি নাটকটি মঞ্চস্থ করেন র‍্যাব-৭এর কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। তাঁদের নামে তিনটি মামলা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি মামলা সন্ত্রাস দমন আইনে। একটি বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে। অন্যটি অস্ত্র আইনে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। অন্য মামলাগুলো এখনো চলমান। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আট বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁকে গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সামরিক উপদেষ্টাসহ ডিজিএফআইতে তৎকালীন দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তিনি। জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার অন্য ১০ জন আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön