মঙ্গল গ্রহে মিলল জটিল জৈব যৌগের সন্ধান
মহাবিশ্বে আমরা কি আসলেই একা? মানবজাতির এই চিরন্তন ও রোমাঞ্চকর প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারের পাথরের গায়ে অত্যন্ত জটিল কার্বন যৌগের সন্ধান পেয়েছে নাসার সবচেয়ে আধুনিক রোভার পারসিভিয়ারেন্স। এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে জৈব পদার্থ বা অর্গানিক ম্যাটেরিয়াল খোঁজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এ বিষয়ে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী কা
মহাবিশ্বে আমরা কি আসলেই একা? মানবজাতির এই চিরন্তন ও রোমাঞ্চকর প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারের পাথরের গায়ে অত্যন্ত জটিল কার্বন যৌগের সন্ধান পেয়েছে নাসার সবচেয়ে আধুনিক রোভার পারসিভিয়ারেন্স। এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে জৈব পদার্থ বা অর্গানিক ম্যাটেরিয়াল খোঁজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এ বিষয়ে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী কাইল উকার্ট বলেন, চেয়াভা ফলস নামের একটি পাথরের উপরিভাগে ম্যাক্রোমলিকুলার কার্বন শনাক্ত করা গেছে। মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে এত কম গভীরতায় জৈব যৌগের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এই জৈব পদার্থ হয়তো খুব সম্প্রতি উন্মুক্ত হয়েছে অথবা কোনো সুরক্ষামূলক খনিজের আবরণে ঢাকা ছিল। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারের পশ্চিম ডেলটায় থাকা প্রাচীন নদী খাত হিসেবে পরিচিত নেরেতভা ভ্যালিসের দুটি পাথরের গায়ে এই ম্যাক্রোমলিকুলার কার্বনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই জটিল কার্বনের পাশাপাশি পাথরগুলোতে কার্বনেট, সালফেট এবং ফসফেটের মতো খনিজ উপাদানও পাওয়া গেছে, যা আমাদের চেনা জীবনের অন্যতম প্রধান বিল্ডিং ব্লক। আগেও কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটার এলাকায় জৈব কাদাপাথরের সন্ধান পেয়েছিল। এবার তার থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে জেজেরো ক্রেটারেও একই ধরনের পাথরের সন্ধান মিলল। এটি প্রমাণ করে, শতকোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে প্রাণ ধারনের অনুকূল পরিবেশ ও উপাদান ছড়িয়ে ছিল। এ ছাড়া এবারের পাওয়া ম্যাক্রোমলিকুলার কার্বন মঙ্গলে এর আগে পাওয়া যেকোনো জৈব অণুর চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও উন্নত। পাথরটির বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরা রামন ম্যাপিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি পৃথিবীতে থাকা বিভিন্ন উল্কাপিণ্ডের তুলনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অ্যাশলে মারফি জানিয়েছেন, এটি মূলত একধরনের অ্যামরফাস কার্বন। পৃথিবীতে বিটুমিনাস কয়লা এই ধরনের গঠন সরাসরি জৈবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানীদের মতে, সন্ধান পাওয়া জৈব পদার্থটি কোনো গ্রহাণুর ধূলিকণা বা উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে মঙ্গল গ্রহে আসতে পারে। আবার মঙ্গল গ্রহের নিজস্ব আগ্নেয়গিরি, বৈদ্যুতিক-রাসায়নিক প্রক্রিয়া বা ভূগর্ভস্থ গরম পানির স্রোতের মতো অজৈবিক কারণেও এটি তৈরি হতে পারে। এই রহস্যের জট পুরোপুরি খুলতে হলে মঙ্গলের এই পাথরগুলোকে পৃথিবীর অত্যাধুনিক গবেষণাগারে এনে পরীক্ষা করা জরুরি। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →