মনিরামপুরে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি
খালের নাম বড় খাল। খালটির দুই পাড়ে দুটি ইউনিয়ন ও দুটি গ্রাম। দক্ষিণ পাড়ে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের পাড়িয়ালী গ্রাম। আর উত্তর পাড়ে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রাম। খালের ওপর ছিল সেতু। দুটি গ্রামকে যুক্ত করেছিল সেই সেতু। সেতুটি দিয়ে এলাকার লোকজন চলাচল করতেন। চলত বিভিন্ন যানবাহনও। সেতুটি একবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে।
খালের নাম বড় খাল। খালটির দুই পাড়ে দুটি ইউনিয়ন ও দুটি গ্রাম। দক্ষিণ পাড়ে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের পাড়িয়ালী গ্রাম। আর উত্তর পাড়ে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রাম। খালের ওপর ছিল সেতু। দুটি গ্রামকে যুক্ত করেছিল সেই সেতু। সেতুটি দিয়ে এলাকার লোকজন চলাচল করতেন। চলত বিভিন্ন যানবাহনও। সেতুটি একবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে। কাজের মেয়াদও শেষ হয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সড়কটি দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এলজিইডি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের (সিএএফডিআরআইআরপি) আওতায় নেহালপুর ইউপি-হাজিরহাট বাজার ভায়া কুলটিয়া ইউপি সড়কের বড় খালের ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ব্যয়ে সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ পায় সাতক্ষীরার পলাশপোলের ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার। ২০২৪ সালের ১ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজ হয়েছে। রোস্তম সরদার, ঘাটশ্রমিক, ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রাম সেতুর কারণে সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে ভাঙাচোরা কাঠের সেতু দিয়ে কষ্ট করে পার হতে পারলেও বর্ষার সময় একদম চলাচল করা যায় না। পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক আবদুল আজিজ মোড়ল বলেন, দুই বছর ধরে ঠিকাদার একটু একটু করে কাজ করছেন। কাজ শেষই হচ্ছে না। কাঠের নড়বড়ে সেতু দিয়ে ভ্যান পার করা খুবই কষ্টকর। এ জন্য যাত্রীও ঠিকমতো হচ্ছে না। খুব কষ্টে আছেন। ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের ঘাটশ্রমিক রোস্তম সরদার বলেন, সেতুর কারণে সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে ভাঙাচোরা কাঠের সেতু দিয়ে কষ্ট করে পার হতে পারলেও বর্ষার সময় একদম চলাচল করা যায় না। খুবই দুর্ভোগে আছেন। ১৫ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট থেকে একটি সড়ক সোজা দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। সড়কটি ধরে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার গেলে একটি বিল। বিলের বুক চিরে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে চলে গেছে বড় খাল। খালটির বেশির ভাগ অংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। খালের দুই পাশে দুটি বড় কংক্রিটের পিলার তোলা। দুটি পিলারের মধ্যে পুরোনো সেতু। সেতুটির বেশির ভাগ অংশ ভাঙা হয়েছে। নিচের অংশ রয়ে গেছে। যাতায়াতের জন্য নির্মাণাধীন সেতুটির পূর্ব পাশে খালের ভেতর কাঠের গুঁড়ি পুঁতে তার ওপর তক্তা বিছিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছে। তবে অস্থায়ী সেতুটি নড়বড়ে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন লোকজন। সেখানে কয়েকজন এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ হয়। তাঁরা জানান, নেহালপুর ইউপি-হাজিরহাট বাজার ভায়া কুলটিয়া ইউপি সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে এলাকার অন্তত ২০টি গ্রামের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ চলাচল করেন। তবে দীর্ঘদিন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তাঁরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ভবদহ জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে অস্থায়ী কাঠের সেতুটি পানিতে ডুবে থাকে। এই সময় সড়কটি দিয়ে যাতায়াত একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ঠিকাদার কয়েক দিন কাজ করেন, এরপর চলে যান। আবার কয়েক দিন পর এসে কাজ শুরু করেন। এভাবে কাজ করায় দুই বছরে কাজের অর্ধেকও হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদার ইকবাল জমাদার বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে পানি সেচে সেতুর কাজ শুরু করতে হয়েছে। এ জন্য সময় বেশি লাগছে। পুরাতন সেতু ভাঙার কাজ আর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর পর আমি সেতুর স্লাবের কাজ শুরু করব। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার সময় আছে। আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে লোকজনের চলাচলের জন্য পাশের নড়বড়ে কাঠের সেতুটি দুই দিনের মধ্যে মেরামত করে দেওয়া হবে।’ পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক ভুপতি রায় বলেন, খালের ওপারে ভ্যান থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে টেনে ভ্যান পার করে এপারে এসেছেন। নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়ে ভ্যান টানতে খুব কষ্ট হয়েছে। সেতুটি না হওয়া পর্যন্ত এই কষ্ট যাবে না। তাঁদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। এলজিইডির মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে এলাকা দীর্ঘদিন পানিতে ভরে থাকে। এ জন্য ছয় মাস কোনো কাজ করা যায় না। বর্তমানে সেতুটির ঢালাইয়ের জন্য শার্টার বসানোর কাজ চলছে, তা ছাড়া নিচে পুরাতন সেতুর কিছুটা অংশ রয়ে গেছে। ওই অংশটি ভেঙে সরিয়ে নেওয়ারও কাজ চলছে। এটা শেষ হলে স্লাবের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে সেতুটির ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। স্লাবের কাজ শেষ হলে ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে। আশা করছেন, চলতি বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে।
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →