গাজীপুরে নারী শ্রমিকের মৃত্যুর জেরে বিভিন্ন কারখানায় হামলা-ভাঙচুর
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে উপজেলার টেপিরবাড়ি, কেওয়াসহ আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নাশকতার আশঙ্কায় অন্তত ১০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার অ্যান্ড কোং পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে লিজা আক্তার (৩৬) নামের এক নারী শ্রমিক মারা যান। লি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে উপজেলার টেপিরবাড়ি, কেওয়াসহ আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নাশকতার আশঙ্কায় অন্তত ১০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার অ্যান্ড কোং পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে লিজা আক্তার (৩৬) নামের এক নারী শ্রমিক মারা যান। লিজা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী। শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। একই কারখানায় মোসা. শোভা নামের আরেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে বেসরকারি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। রাতে শ্রমিকের মৃত্যুর পর আজ সকাল আটটার দিকে কারখানার সামনে মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে টেপিরবাড়িসহ আশপাশের এলাকার কয়েকটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার শিকার কারখানাগুলো হলো খাদিজা সাদেক স্পিনিং মিলস, এমএইচসি অ্যাপারেলস, লিফগ্রেড লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস লিমিটেড ও সিজি গার্মেন্টস। তবে শ্রমিক মারা যাওয়া কালার অ্যান্ড কোং কারখানায় কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। শ্রীপুরে কারখানায় হামলার সময় ভাঙচুর করা একটি প্রাইভেট কার। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কেওয়া এলাকায় শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই কারখানাগুলোতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের বেশির ভাগ বহিরাগত। তাঁরা কারখানার সামনের ফটকে ভাঙচুরের পর ভেতরে গিয়েও ভাঙচুর চালান। হামলায় শ্রমিকবাহী বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, মোটরসাইকেল, রিসেপশন, স্টোররুম ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিক নজরুল ইসলাম বলেন, নারী শ্রমিকের মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ কয়েকজন আশপাশের কয়েকটি কারখানার দিকে ছুটে যান। তবে অতি উৎসাহী হয়ে অপরিচিত ও অল্পবয়সী একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানাগুলোতে হামলা করেন। শ্রীপুরে কারখানায় কর্মরত অবস্থায় নারী শ্রমিকের মৃত্যু, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ আরেক শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীদের প্রায় সবাই বহিরাগত বলে মনে হয়েছে। নারীর মৃত্যুর জেরে সংশ্লিষ্ট কারখানায় কোনো ভাঙচুর হয়নি; বরং অন্যান্য কারখানায় ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর ধারণা, এটা পরিকল্পিত হতে পারে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু কারখানায় ভাঙচুর করা হয়েছিল। লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলাকারীদের মধ্যে বহিরাগত ব্যক্তিরা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পপুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নাশকতার আশঙ্কায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →