সিগারেট ফিল্টার ও নিকোটিন পাউচে সম্পূরক শুল্ক হ্রাস, তামাক খাতে কর প্রস্তাবনায় পরিবর্তন
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক খাতের কর প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে সংশোধিত অর্থবিলে সিগারেট তৈরির কাঁচামাল ফিল্টার আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাবিত ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এটি প্রস্তাবিত হারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হ্রাস। একইসঙ্গে, নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতেও সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, যা প্রস্তাবিত ১০০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়েও শুল্ক ছাড় দিয়ে তা ৪০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ সিগারেটের বিক্রি বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমে যাওয়ায় এই শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, শুল্ক বাড়ালে দাম বাড়বে এবং ধূমপায়ীরা অবৈধ সিগারেটের দিকে ঝুঁকবে। তবে, তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করে বলছে, এতে কোম্পানিগুলো লাভবান হবে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।
বাংলাদেশের আসন্ন বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর সম্পূরক শুল্ক হ্রাস, বিশেষ করে সিগারেট ফিল্টার এবং নিকোটিন পাউচের ক্ষেত্রে, একটি জটিল অর্থনৈতিক ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সিদ্ধান্ত। একদিকে, সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অবৈধ পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। খাত সংশ্লিষ্টদের যুক্তি, শুল্ক বৃদ্ধি পেলে দাম বাড়বে এবং অবৈধ পণ্যের ব্যবহার বাড়বে, যা রাজস্ব আদায় কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, শুল্ক হ্রাস তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতা বাড়াবে, যা ধূমপান এবং নিকোটিন আসক্তি বৃদ্ধি করবে, ফলে জনস্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক সুবিধা এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দীর্ঘমেয়াদে, তামাকজাত পণ্যের উপর উচ্চ কর আরোপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এই দুটি পরস্পরবিরোধী লক্ষ্যের মধ্যে একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
📌 Kaynak
Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →