যিনি আমাদের মনের কথাই বলতেন

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 6 saat önce
যিনি আমাদের মনের কথাই বলতেন

২৯ জুন ২০২৬। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে আরেকটি বেদনাময় দিন। এই দিনে আমরা হারালাম দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী, পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা এবং অসামান্য সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ারকে। তাঁর বিদায়ে শুধু একজন শিল্পীর জীবনাবসান হয়নি; যেন আমাদের শৈশব, আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতি আর সৃজনশীলতার একটি উজ্জ্বল অধ্যায়েরও পরিসমাপ্তি ঘটল। আমার কাছে তিনি শুধু ‘পাপেটম্যান’ নন, তিনি ছিলেন ‘পাপেটবন্ধু’। তিনি পুতুল দিয়ে শুধু গল্প বলেননি; তিনি মানুষের, বিশেষ করে

২৯ জুন ২০২৬। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে আরেকটি বেদনাময় দিন। এই দিনে আমরা হারালাম দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী, পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা এবং অসামান্য সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ারকে। তাঁর বিদায়ে শুধু একজন শিল্পীর জীবনাবসান হয়নি; যেন আমাদের শৈশব, আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতি আর সৃজনশীলতার একটি উজ্জ্বল অধ্যায়েরও পরিসমাপ্তি ঘটল। আমার কাছে তিনি শুধু ‘পাপেটম্যান’ নন, তিনি ছিলেন ‘পাপেটবন্ধু’। তিনি পুতুল দিয়ে শুধু গল্প বলেননি; তিনি মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মনের ভাষা বুঝতেন। সেই ভাষাতেই কথা বলতেন। যে মানুষটি মানুষের মন পড়তে পারতেন আজকের পৃথিবীতে আমরা ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করি। আমরা জানি, সফল যোগাযোগের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো টার্গেট অডিয়েন্সকে বোঝা। মানুষ কী ভাবে, কী অনুভব করে, কী শুনতে চায়—তা না বুঝে কোনো যোগাযোগই সফল হয় না। মুস্তাফা মনোয়ার এই কাজটাই করেছিলেন বহু আগেই, যখন ‘টার্গেট অডিয়েন্স’, ‘ইউজার ইনসাইট’ কিংবা ‘হিউম্যান-সেন্টারড ডিজাইন’—এসব শব্দ আমাদের অভিধানে ছিল না। তিনি শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান বানাননি; শিশুদের মন বুঝে অনুষ্ঠান বানিয়েছিলেন। আর সে কারণেই তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি হয়ে উঠেছিল সময়ের সীমা অতিক্রম করা এক অনন্য শিল্পকর্ম। ঢাকার তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই কার্যালয়ে মুস্তাফা মনোয়ারের নামে বানানো স্টুডিওর সামনে মুস্তাফা মনোয়ার ‘মনের কথা’ যেন আমাদেরই মনের কথা আমাদের শৈশবে ছিল না ইউটিউব, ছিল না ফেসবুক, ছিল না অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেলের ভিড়। ছিল কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। বিকেল হলেই পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশনের সামনে বসে অপেক্ষা করতাম। তারপর পর্দায় ভেসে উঠত সেই প্রিয় অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’। আজ মনে হয়, নামটি শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না; যেন সত্যিই সেটি ছিল আমাদেরই মনের কথা। পারুল, বাউল ভাই, মেনি, বাঘা, রাখাল কিংবা দাদু—এই চরিত্রগুলো ছিল আমাদের পরিবারেরই সদস্য। তারা কখনো নীতিকথা চাপিয়ে দিত না; বরং গল্প, হাসি আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে শিখিয়ে দিত মানবিকতা, সহমর্মিতা, প্রকৃতিপ্রেম, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম। সেই সময়ের শিশুদের আবেগ, কৌতূহল আর কল্পনার জগৎকে এত গভীরভাবে খুব কম মানুষই বুঝতে পেরেছিলেন। যেখান থেকে জন্ম নিয়েছিল ‘মীনা’ বাংলাদেশের পাপেটশিল্পকে আধুনিক রূপ দেওয়ার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের। হুগলি, বাঁকুড়া ও কলকাতায় পাপেট দেখে তাঁর আগ্রহ জন্মেছিল। পরে তিনি বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যকে আধুনিক শিল্পভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে সৃষ্টি করেন ‘পারুল’ চরিত্র। এই পারুলই পরবর্তী সময়ে ইউনিসেফের কর্মকর্তা র‍্যাচেল কার্নেগিকে অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুপ্রেরণার ধারাবাহিকতায় জন্ম নেয় দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি শিশুর প্রিয় চরিত্র ‘মীনা’। এক অর্থে, মীনার শিকড়ও লুকিয়ে আছে মুস্তাফা মনোয়ারের সৃজনশীল ভাবনায়। চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মুক্তিযুদ্ধেও থামেননি ১৯৭১ সালে যখন দেশ জ্বলছে, লাখো মানুষ শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে, তখনো তিনি থেমে থাকেননি। ভারতের শরণার্থীশিবিরে পাপেট শো করে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশু ও মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও তিনি বিশ্বাস করতেন—সংস্কৃতি মানুষের মনোবল জাগিয়ে তুলতে পারে। এটাই ছিল তাঁর শিল্পচর্চার সবচেয়ে মানবিক রূপ। প্রতিবাদের শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার শুধু শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন একজন সচেতন নাগরিকও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় স্কুলে পড়াকালেই ভাষা আন্দোলন নিয়ে কার্টুন আঁকার কারণে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। পরে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রে যোগ দিয়ে তিনি টেলিভিশনকে বাংলা সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলেন। ১ সেপ্টেম্বর ৮৫ বছরে পা রেখেছেন কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। ছবি: সংগৃহীত বাংলাদেশ টেলিভিশনের সৃজনশীল স্থপতি বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইতিহাসে তাঁর অবদান অনন্য। ‘নতুন কুঁড়ি’, ‘মনের কথা’, ‘আজব দেশে’, ‘রক্তকরবী’, ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’—প্রতিটি নির্মাণেই ছিল তাঁর সৃজনশীলতার স্বাক্ষর। শিশুদের অনুষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রীয় আয়োজন, নাটক থেকে পাপেট, মঞ্চ থেকে টেলিভিশন—সব জায়গাতেই তিনি নতুন ভাষা তৈরি করেছেন। তিনি শুধু অনুষ্ঠান নির্মাণ করেননি; দর্শকের রুচি গড়ে তুলেছেন। শিল্পের বহুমাত্রিক এক নক্ষত্র চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল আন্তর্জাতিক। জলরং, তেলরং ও গ্রাফিকস সব ক্ষেত্রেই তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায় তাঁর জলরঙের কাজ দেখে মন্তব্য করেছিলেন—‘অল্প কয়েকটি রেখায় অনেক কথা বলা যায়।’ সত্যিই, মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পে ছিল সেই সংযম, যে সংযম গভীরতম অনুভূতিকেও নীরবে প্রকাশ করতে পারে। ‘শিল্প সারথি’ প্রামাণ্যচিত্রে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার প্রশাসক, শিক্ষক, সংস্কৃতি সংগঠক তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপমহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় সাফ গেমসের বিখ্যাত মাসকট ‘মিশুক’ এবং ষষ্ঠ সাফ গেমসের জীবন্ত পাপেট ‘অদম্য’ দুটিই তাঁর সৃজনশীল পরিকল্পনার ফসল। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, টেলিভিশন নাটক, শিশুদের অনুষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন স্থায়ী স্বাক্ষর। ২০০৪ সালে শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন একুশে পদক। তিনি কেন প্রাসঙ্গিক ও সর্বজনীন থাকবেন আজ আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মিডিয়া, অ্যালগরিদম আর ডেটাচালিত যোগাযোগের যুগে বাস করছি। তবু একটি বিষয় অপরিবর্তিত— মানুষকে বুঝতে না পারলে কোনো যোগাযোগই সফল হয় না। মুস্তাফা মনোয়ার প্রযুক্তি দিয়ে নয়, মানুষকে বুঝে যোগাযোগ করতেন। তিনি জানতেন একটি শিশুর হাসির মূল্য কী, একটি গল্প কীভাবে শিক্ষা হয়ে ওঠে, আর একটি পাপেট কীভাবে হাজার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে। এ কারণেই তাঁর সৃষ্টি সময়কে অতিক্রম করেছে। মুস

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön