অ্যান্টার্কটিকার এক রহস্যময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত হচ্ছে সোনা

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
অ্যান্টার্কটিকার এক রহস্যময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত হচ্ছে সোনা

বরফে ঢাকা রহস্যময় মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। এর গহিন বুকে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এমন এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়, যা শুনলে রূপকথা বলে মনে হতে পারে। পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি প্রতিনিয়ত বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকার খাঁটি সোনা। অ্যান্টার্কটিকার রস দ্বীপে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটির নাম মাউন্ট ইরেবাস। এটি বিশ্বের একমাত্র আগ্নেয়গিরি, যা লাভা ও গ্যাসের সঙ্গে তরল বা সাধারণ ধূলিকণা নয়, খাঁটি সোনার ক্ষুদ্র স্ফটিক বা ক্রিস্টাল বাতাসে উগড়ে দিচ্ছে। জিওফিজিক্যাল রিসার্

বরফে ঢাকা রহস্যময় মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। এর গহিন বুকে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এমন এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়, যা শুনলে রূপকথা বলে মনে হতে পারে। পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি প্রতিনিয়ত বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকার খাঁটি সোনা। অ্যান্টার্কটিকার রস দ্বীপে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটির নাম মাউন্ট ইরেবাস। এটি বিশ্বের একমাত্র আগ্নেয়গিরি, যা লাভা ও গ্যাসের সঙ্গে তরল বা সাধারণ ধূলিকণা নয়, খাঁটি সোনার ক্ষুদ্র স্ফটিক বা ক্রিস্টাল বাতাসে উগড়ে দিচ্ছে। জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, মাউন্ট ইরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম অতি ক্ষুদ্র সোনার ক্রিস্টাল নির্গত হয়। বর্তমান বাজারে এর মূল্য দৈনিক প্রায় ছয় হাজার মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে প্রতিবছর এই আগ্নেয়গিরি আকাশপথে বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সোনা। ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির চূড়ায় একটি স্থায়ী লাভা হ্রদ রয়েছে। এই হ্রদ থেকে অনবরত বিভিন্ন আগ্নেয় গ্যাস নির্গত হয়। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, এই গরম গ্যাসগুলোর সঙ্গেই সোনার অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো ওপরে উঠে আসে। বাতাসে ভেসে এই সোনার কণাগুলো আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময় অ্যান্টার্কটিকার বরফের ওপর গিয়ে জমা হয়। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই সোনার কণাগুলো সাধারণ ধূলিকণার মতো নয়। এগুলো সুগঠিত ছোট ছোট স্ফটিক বা ক্রিস্টাল আকৃতির, যার কোনো কোনোটির আকার ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আগ্নেয়গিরির গ্যাসে সোনার উপস্থিতি পাওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য একেবারে নতুন কিছু নয়। এর আগে হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন ও মেক্সিকোর এল চিচন আগ্নেয়গিরির গ্যাসেও সামান্য পরিমাণে সোনা পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত গ্যাসের সঙ্গে ক্লোরিন বা সালফারযুক্ত যৌগ মিশে সোনা ওপরের দিকে উঠে আসে। পরবর্তী সময় গ্যাস যখন ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখন সোনা আলাদা হয়ে স্ফটিকের রূপ নেয়। তবে মাউন্ট ইরেবাসের সোনা তৈরির প্রক্রিয়া পৃথিবীর অন্য যেকোনো আগ্নেয়গিরির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। মাউন্ট ইরেবাস কীভাবে এই মাইক্রোস্কোপিক সোনার ক্রিস্টাল তৈরি ও বাতাসে ছেড়ে দেয়, সেই রহস্যের সঠিক কোনো সমাধান বিজ্ঞানীরা এখনো পাননি। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার কথা বলেছেন। বাতাসে ঠান্ডা হওয়ার সময় ক্লোরিনযুক্ত আগ্নেয় গ্যাস থেকে সোনা সরাসরি ক্রিস্টালে পরিণত হয়। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি হওয়া কঠিন। কারণ, গ্যাসে সোনার পরিমাণ থাকে খুবই সামান্য। আবার মনে করা হয়, আগ্নেয়গিরির লাভা হ্রদের উপরিভাগে এই সোনার ক্রিস্টালগুলো প্রথমে খুব ধীরে ধীরে বড় হয়। পরবর্তী সময় আগ্নেয় গ্যাসের তীব্র টানে তারা বাতাসের সঙ্গে ওপরে উঠে আসে। বিজ্ঞানীদের কাছে আজও এই রহস্যের সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। মাউন্ট ইরেবাসের এই সোনার বৃষ্টি মহাকাশ ও পৃথিবী বিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম এক বড় মহাজাগতিক বিস্ময় হয়ে টিকে আছে। সূত্র: এনডিটিভি

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön