দিল্লিতে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় যন্তরমন্তরে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন কেমন চলছে

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
দিল্লিতে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় যন্তরমন্তরে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন কেমন চলছে

দিল্লির যন্তরমন্তর, আঠারো শতকে নির্মিত এই স্থাপনা ভারতের রাজধানীর সবচেয়ে পরিচিত সমাবেশস্থল। কয়েক শ শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও আন্দোলনকারীরা প্রায় ১০ দিন ধরে সেখানে দিনরাত অবস্থান করছেন। মাথার ওপর গনগনে সূর্যের তাপ, যেন আগুন ঝরে পড়ছে, দিনে-রাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। তীব্র তাপপ্রবাহে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ বসে আছেন, আবার কেউ কেউ এমনকি গা পুড়ে যাওয়া গরম রাস্তার ওপর শুয়ে আছেন। ভারী হলুদ রঙের ধাতব ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদ

দিল্লির যন্তরমন্তর, আঠারো শতকে নির্মিত এই স্থাপনা ভারতের রাজধানীর সবচেয়ে পরিচিত সমাবেশস্থল। কয়েক শ শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও আন্দোলনকারীরা প্রায় ১০ দিন ধরে সেখানে দিনরাত অবস্থান করছেন। মাথার ওপর গনগনে সূর্যের তাপ, যেন আগুন ঝরে পড়ছে, দিনে-রাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। তীব্র তাপপ্রবাহে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ বসে আছেন, আবার কেউ কেউ এমনকি গা পুড়ে যাওয়া গরম রাস্তার ওপর শুয়ে আছেন। ভারী হলুদ রঙের ধাতব ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশ, ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ধাতব ব্যারিকেডগুলো স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই বিক্ষোভের নেতারা পালাক্রমে মাইক্রোফোনে বক্তব্য দিচ্ছেন, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন, গান গাইছেন। গত রোববার থেকে দিল্লিতে ‘তেলাপোকাদের’ এই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কারণ, হিমালয় অঞ্চলের সুপরিচিত জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন। নিজেদের ‘তেলাপোকা’ বলে পরিচয় দেওয়া এই বিক্ষোভকারীরা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের সদস্য। তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। ভারতে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মে মাসের শুরুতে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীকেই নিতে হবে এবং এ দায় মাথায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। গত রোববার থেকে দিল্লিতে ‘তেলাপোকাদের’ এই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কারণ, হিমালয় অঞ্চলের সুপরিচিত জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণ, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবীর’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসের মাঝামাঝি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গড়ে ওঠে। ককরোচ জনতা পার্টির চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লিতে অনশন শুরু করেছেন হিমালয় অঞ্চলের জনপ্রিয় পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ২৮ জুন ২০২৬ পরে প্রধান বিচারপতি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, তিনি সাধারণ তরুণদের নয়, বরং ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’ ব্যক্তিদের কথা বোঝাতে ওই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যা তরুণদের ক্ষোভ দমাতে পারেনি। অভিজিৎ দীপকে নামের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ভারতীয় তরুণ অনলাইনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন করেন। ৩০ বছর বয়সী দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। সমাবেশস্থল থেকে তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মাত্র তখনই জিম থেকে ফিরে আমার পিএস৫-এ ফিফা খেলছিলাম। ঠিক সেই সময় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যটি আমার চোখে পড়ে।’ প্রধান বিচারপতির মন্তব্যটি দেখে তিনি ‘কিছুটা হতাশ ও বিস্মিত’ হন জানিয়ে অভিজিৎ লেখেন, ‘আমি এক্সে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এক লাইনের একটি পোস্ট দিই। সেখানে লিখি—যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?’ অভিজিৎ বলেন, ‘অনেক মিম, রসিকতা আর মন্তব্য আসতে থাকে। অনেকেই লিখেছিলেন, আমাদের নিজেদের একটি প্ল্যাটফর্ম, এমনকি হয়তো নিজেদের একটি দল গড়া উচিত। তখন আমি ভাবলাম, কেন নয়? চলুন, একটু ব্যতিক্রমী কিছু করা যাক।’ অভিজিৎ দীপকে, ককরোচ জনতা পার্টির নেতা ‘বিমানবন্দর থেকে আমাকে বের হতে দেওয়া হবে, এমনটা আমি নিজেও ভাবিনি। আমি ভেবেছিলাম, আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রম্পটের সাহায্যে অভিজিৎ একটি লোগো ও একটি মাসকট তৈরি করেন—স্যুট পরা একটি তেলাপোকা। এভাবেই জন্ম হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র। দলটির নাম রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করে। কয়েক দিনের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টি আর শুধু মিম ও রসিকতার একটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এমন একটি মঞ্চে পরিণত হয়, যেখানে তরুণেরা চাকরির সংকট, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এসব নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরতে শুরু করেন। পাশাপাশি তাঁরা ক্ষমতাসীনদের কাছে এসবের জবাবও দাবি করেন। অভিজিতের ওই পোস্ট কয়েক লাখবার দেখা হয় এবং এতে বিপুল সাড়া মেলে, বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের কাছ থেকে। অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘এর কোনোটাই আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল না। শুরুতে এটি কেবল ব্যঙ্গধর্মী একটি উদ্যোগ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ এতে যুক্ত হতে শুরু করলে অনেকে বলতে থাকেন, এটিকে একটি বড় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। কারণ, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই আমাদের চাহিদা, আশা বা আকাঙ্ক্ষার কথা বলছে না। এক অর্থে সমর্থকদের চাপে আমাকেও এই পথে এগিয়ে আসতে হয়েছে।’ অভিজিৎ আরও বলেন, ‘যেহেতু তরুণদের একটি আন্দোলন, তাই প্রথমেই এমন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা সরাসরি তরুণদের সঙ্গে সম্পর্কিত। বছরের পর বছর ধরে আমরা দেখেছি, একের পর এক পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে বা এর দায় স্বীকার করতে কেউ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’ ককরোচ জনতা পার্টি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। আর এর নেতাদের মধ্যেও এটিকে রাজনৈতিক দলে রূপ দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ইনস্টাগ্রামে তাদের ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী থাকলেও এই বিপুল অনলাইন সমর্থন বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কতটা সমর্থনে রূপ নেবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি গত ৬ জুন প্রথম যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ করে। বোস্টন থেকে দেশে ফিরে অভিজিৎ সরাসরি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর দেশে ফেরা এবং বি

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön