‘নীরবতা বিজেপি সরকারকে আরও সাহসী করে তুলছে’

📌 Diğer 📰 Bangladesh 🕐 3 saat önce
‘নীরবতা বিজেপি সরকারকে আরও সাহসী করে তুলছে’

সূর্যাস্তের সময়টাই জেলে সবচেয়ে কঠিন। দিল্লির কুখ্যাত তিহার জেলের হাজার হাজার বন্দীকে যখন তাঁদের সেল থেকে বের করে অন্ধকার নামার আগপর্যন্ত স্যাঁতসেঁতে উঠানে থাকতে বাধ্য করা হয়, তখন থেকেই বন্দী নম্বর ৬২৬৭১৪-এর মনের ভেতর এক তীব্র আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। তবে বন্দী উমর খালিদ সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে ভারত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এক নির্বাসনশিবিরে থাকা আরেকজন রাজনৈতিক বন্দীও আজ থেকে ১৫০ বছরের বেশি সময় আগে ঠিক একই অনুভূতির কথা লিখেছিলেন। এটি তাঁকে বেশ নাড়া দিয়েছে। ২০২০ সালে জে

সূর্যাস্তের সময়টাই জেলে সবচেয়ে কঠিন। দিল্লির কুখ্যাত তিহার জেলের হাজার হাজার বন্দীকে যখন তাঁদের সেল থেকে বের করে অন্ধকার নামার আগপর্যন্ত স্যাঁতসেঁতে উঠানে থাকতে বাধ্য করা হয়, তখন থেকেই বন্দী নম্বর ৬২৬৭১৪-এর মনের ভেতর এক তীব্র আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। তবে বন্দী উমর খালিদ সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে ভারত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এক নির্বাসনশিবিরে থাকা আরেকজন রাজনৈতিক বন্দীও আজ থেকে ১৫০ বছরের বেশি সময় আগে ঠিক একই অনুভূতির কথা লিখেছিলেন। এটি তাঁকে বেশ নাড়া দিয়েছে। ২০২০ সালে জেলে যাওয়ার পর নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে খালিদ বলেন, ‘দস্তয়েভস্কিও তাঁর জেলের স্মৃতিচারণায় সূর্যাস্তের সময়কার এই মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। আমার মনে হয়, সূর্যাস্ত হলেই মানুষ বুঝতে পারে যে তার জীবনের আরও একটি দিন বন্দিদশায় কেটে গেল।’ ভারতের বিচারব্যবস্থা যেভাবে ‘জনবিরোধী’ হয়ে উঠল তিহার জেলের দেয়ালের বাইরে ভারতে এমন মানুষ খুব কমই আছেন, যিনি উমর খালিদের নাম শোনেননি। গত দশকে প্রথমে একজন তুখোড় ছাত্রনেতা এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য সেটিই ছিল প্রথম বড় কোনো চ্যালেঞ্জ। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁকে সন্ত্রাসী হিসেবে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। দিল্লির প্রাণঘাতী দাঙ্গার ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ এবং ‘সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের’ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। টিভি চ্যানেলগুলো এখনো রাতের টক শোতে উমর খালিদকে ‘মুসলিম সন্ত্রাসী’ বা ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করে। অন্যদিকে বামপন্থী কর্মীরা আন্দোলনের মাঠে তাঁর নাম মুখে নেন, তাঁর ছবি দেওয়া টি-শার্ট পরেন। মানবাধিকারকর্মী ও অধিকার সংগঠনগুলোর কাছে উমর খালিদ হলেন মোদি সরকারের ভিন্নমত দমনের এক প্রতীক। ১২ বছর ধরে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের দমনে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মুসলিম ও বামপন্থী অধিকারকর্মী খালিদ বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার একজন কড়া সমালোচক। এই হিন্দুত্ববাদ ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র থেকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, মোদি সরকার ভারতের ২০ কোটি মুসলমান ও অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নকে উসকে দিচ্ছে। তবে বিজেপি ধর্মীয় বৈষম্যের এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কোনো বিচার ছাড়াই খালিদকে প্রায় ছয় বছর ধরে জেলে আটকে রাখাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অন্যায় বলে নিন্দা জানিয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সংহতি জানিয়ে তাঁকে একটি হাতে লেখা চিঠি পাঠালে ভারত সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিজেপির দাবি, ভারতের বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং খালিদের মামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। কারাগারের নিয়মের কারণে দ্য গার্ডিয়ান সরাসরি খালিদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। পরিবার ও বন্ধুদের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠিয়ে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ৩৮ বছর বয়সী এই যুবক। তবে রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্রের মোকাবিলা করতে গিয়ে মানসিকভাবে ঠিক থাকা যে কতটা কঠিন, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালে কলকাতায় আয়োজিত একটি গণসমাবেশ; যেখানে অন্য নাগরিকদের অধিকার বঞ্চিত করে হিন্দুদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা একটি নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। উমর খালিদ বলেন, ‘আপনাকে যখন ভালো বা খারাপ—যেকোনো একটা তকমায় আটকে দেওয়া হয়, তখন নিজের মানবিকতা ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি যাঁরা আপনাকে সমর্থন করেন বা বড় নেতা হিসেবে তুলে ধরেন, তাঁরাও ভুলে যান যে আমিও একজন মানুষ। আমারও ভয়, দুর্বলতা আর খামতি আছে। এই দীর্ঘ কারাজীবন আমার শরীর ও মনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এবং আমার ভেতরের উদ্বেগগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ জেলে থাকলেও মোদি সরকারের প্রতি উমর খালিদের মনোভাব একটুও নরম হয়নি। ভারতে হিন্দুত্ববাদ প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খালিদ বলেন, ‘ঘৃণা ও গণহত্যামূলক বক্তব্যকে যেভাবে স্বাভাবিক করা হচ্ছে এবং বাহবা দেওয়া হচ্ছে, তা দেখে আমি আতঙ্কিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সত্যোত্তর সমাজে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ।’ মামলার আইনি বিষয় বা তিহার জেলের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা না বলার শর্ত থাকলেও খালিদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চুপ থাকা কোনো সমাধান নয়। উমর খালিদ বলেন, ‘এমনকি একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করা সহবন্দীরাও আড়ালে আপনাকে “সন্ত্রাসী” বলে ডাকে। এই অপপ্রচার মানুষের চোখে আমার বি-মানবিকীকরণ ঘটায়। মানবিকতাও এক বিশেষ অধিকারে পরিণত হয়, যা আমার মতো মানুষের কপালে জোটে না।’ সীমান্তঘেঁষা মেঘালয়ের গ্রামগুলোতে যে কারণে উত্তেজনা দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির মুসলিমপ্রধান এলাকা জামিয়ানগরে বড় হওয়া খালিদ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন কীভাবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান সমাজকে ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভক্ত করেছে এবং মুসলমানদের অধিকার ও মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। খালিদ বলেন, ‘আমি এমন এক মুসলিম ঘেটোতে বড় হয়েছি, যেখানে মুসলমানরা ক্রমে নির্যাতনের শিকার, প্রান্তিক ও খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছিল। যেকোনো সংবেদনশীল মানুষের পক্ষে এই পরিস্থিতি দেখে চুপ থাকা সম্ভব নয়।’ দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) পিএইচডি করার সময় খালিদ সেখানকার ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন ডানপন্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তখন তিনি লাইমলাইটে চলে আসেন। জেএনইউ দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও তর্কবিতর্কের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৬ সালে জেএনইউর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর খালিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ ও দেশের জন্য হুমকি হিসেবে প্রচার করতে থাকে। খালিদ বলেন, ‘এর পর থেকে আমার জীবন আর আগের মতো রইল না।’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্

📌 Kaynak

Bu haber XML kaynağından derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
📱
News AI World — Mobil uygulama
Bu haberleri 45 dilde, anlık çeviriyle cebinde. Erken erişim için Gmail adresini bırak.
← Tüm haberlere dön