ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মারা গেল মাঠে থাকা ৭টি গরু, ক্ষতিপূরণ দাবি

📌 Diğer 📰 Prothom Alo (BD) 🕐 3 saat önce
ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মারা গেল মাঠে থাকা ৭টি গরু, ক্ষতিপূরণ দাবি

রাজশাহীর তানোরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝড়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) একটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। খুঁটির সঙ্গে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লোবাতালা সেতুর পূর্ব পাশে একটি গভীর নলকূপের সংযোগ ছিল। সারা রাত কৃষিজমিতে ছেঁড়া তার পড়ে ছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে সেই মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতটি গরু ও দুটি শিয়াল মারা যায়। গরুগুলোর দাম ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার ঘটনাটি নেসকো জানতে পারেনি। এ ঘটনায় গতকাল সারা দিন ক্ষতিপূরণের

রাজশাহীর তানোরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝড়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) একটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। খুঁটির সঙ্গে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লোবাতালা সেতুর পূর্ব পাশে একটি গভীর নলকূপের সংযোগ ছিল। সারা রাত কৃষিজমিতে ছেঁড়া তার পড়ে ছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে সেই মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতটি গরু ও দুটি শিয়াল মারা যায়। গরুগুলোর দাম ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার ঘটনাটি নেসকো জানতে পারেনি। এ ঘটনায় গতকাল সারা দিন ক্ষতিপূরণের আশায় থাকার পর সন্ধ্যায় গরুগুলো পুঁতে ফেলেন মালিকেরা। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁদের এক বান্ডিল টিন ও তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মারা যাওয়া গবাদিপশুর মালিকদের মধ্যে হরিদেবপুর গ্রামের তপু বালার দুটি, সুধা রানীর একটি, সমাসপুর তালন্দ বাজার এলাকার মোজাফফর হোসেনের একটি, হরিদেবপুর গ্রামের জিতেনের একটি, গীতা রানীর একটি এবং তালন্দ বাজার এলাকার মনজুর রহমানের একটি গরু ছিল। শুক্রবার সারা দিন গরুগুলো ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। গরুর মালিক মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, তিনি ৮২ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছিলেন। এখন বিক্রি করলে লাখ টাকার বেশি দাম হবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ছয়টার দিকে মাঠে গরু ছেড়ে দেন। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি ওই ঘটনার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তাঁর গরুও মরে পড়ে আছে। তাঁরা সবাই ইউএনওর কাছে গিয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হরিদেবপুর গ্রামের তপু বালা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘এই আমাদের সংসার। আমরা গরুর ক্ষতিপূরণ চাই।’ একই কথা বলেন সুধা রানী। স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার রবিদাস বলেন, রাতের ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। সকালে গরুগুলো মাঠে চরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। যোগাযোগ করলে তানোরের নেসকোর আবাসিক (সহকারী) প্রকৌশলী অমিত হাসান বলেন, খুঁটির ট্রান্সফরমার থেকে বিএমডিএর একটি গভীর নলকূপের সংযোগ দেওয়া ছিল। সেখান থেকে আবার লোলিফট পাম্পে আরেকটি সংযোগ টানা ছিল। ঝড়ে গভীর নলকূপ থেকে সংযোগের তার ছিঁড়ে মাঠে পড়ে ছিল। সেচ দেওয়ার প্রয়োজন না হওয়ায় কেউ খেয়াল করেননি। তাঁরাও জানতে পারেননি। সকালে দুর্ঘটনার পর তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ওই লাইনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে লাইন ঠিক করার কাজ করা হয়। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে কি না, জানা নেই। বিএমডিএর তানোর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুতের লাইনটি নেসকোর। এ ব্যাপারে তাঁরা বলতে পারবেন। বিএমডিএ তো নেসকোর গ্রাহক মাত্র। তাঁদের এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই। তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝড়ে তার ছিঁড়ে গেল নাকি অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে, অনুসন্ধান চলছে। নেসকোর আঞ্চলিক প্রকৌশলীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাঁরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তানোরের ইউএনও নাঈমা খান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সকালেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। তিনি প্রত্যেক গরুর মালিককে এক বান্ডিল করে টিন ও নগদ তিন হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল রোববার অফিস খোলার পর গরুর মালিকেরা আবেদন করলে এটা দিতে পারবেন। সঙ্গে একটা শুকনা খাবারের প্যাকেট দেবেন। এর বাইরে আপাতত তাঁর কিছুই করার নেই। এখন নেসকো ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে কি না, সেটা তাদের বিষয়।

📌 Kaynak

Bu özet Prothom Alo (BD) kaynağından otomatik derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.

Orijinal haberi oku →
← Tüm haberlere dön