মণিপুরে জঙ্গি হামলায় তিনজন নিহত, সহিংসতা দমনে পাঠানো হচ্ছে ‘কোবরা কমান্ডো’
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের কাংপোকপি জেলার লোইবল খুল্লেন গ্রামে শুক্রবার ভোরে জঙ্গি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় সাতটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজ্যের কুকি-জো উপজাতিদের শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর (কিম) এই তথ্য জানিয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতা এবং তিনজনের মৃত্যুর জেরে ছত্তিশগড়ের বস্তারকে মাওবাদীমুক্ত করার অভিযানে অংশ নেওয়া ভারতের কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী ‘কোবরা কমান্ডো’র দুটি ইউনিট মণ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের কাংপোকপি জেলার লোইবল খুল্লেন গ্রামে শুক্রবার ভোরে জঙ্গি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় সাতটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজ্যের কুকি-জো উপজাতিদের শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর (কিম) এই তথ্য জানিয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতা এবং তিনজনের মৃত্যুর জেরে ছত্তিশগড়ের বস্তারকে মাওবাদীমুক্ত করার অভিযানে অংশ নেওয়া ভারতের কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী ‘কোবরা কমান্ডো’র দুটি ইউনিট মণিপুরে পাঠানো হচ্ছে। মণিপুর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোনথৌজাম শুক্রবার বলেছেন, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে নিরাপত্তার প্রশ্নে নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘পাহাড় থেকে উপত্যকা, সব এলাকায়’ চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবারই এক বিবৃতিতে কিম অভিযোগ করেছে, নাগা বিদ্রোহী গোষ্ঠী এনএসসিএন-আইএম (ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-আইজ্যাক-মুইভা) এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন জেডইউএফ-কে-এর (জেলিআঙ্গরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট) সদস্যরা প্রচুর অটোমেটিক অস্ত্রসহ শুক্রবার ভোর ৪টা নাগাদ লোইবল খুল্লেন গ্রামে হামলা চালায়। সংগঠনটি দাবি করেছে, এই হামলায় তিন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন, সাতটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং বেসামরিক সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন লোইবল খুল্লেনের বাসিন্দা লেতখোঙ্গাম হাওকিপ, তাঁর স্ত্রী তিনমারি হাওকিপ এবং জাংমিনলাল হাওকিপ। কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (সাউথ ওয়েস্ট সদর হিলস) পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের বয়স ৩০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। তবে পুলিশ এখনো এ ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পাশাপাশি কুকি ইনপি জানিয়েছে, মণিপুরে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে কাজ শুরু হয়েছে, তারা সেটির চূড়ান্ত বিরোধিতা করছে। কুকি কুকি সংগঠনের মতে, সংশোধনের কাজ এখন করা সম্ভব নয়। কারণ, তাদের গোষ্ঠীর বহু মানুষ এখনো শরণার্থীশিবিরে রয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে তিন বছর ধরে চলা ধারাবাহিক সংঘাতে মণিপুরে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। নিহত হয়েছে ২৫০ জনের বেশি। কাংপোকপি জেলায় শুক্রবার ভোরের দিকে হামলায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কিম একে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ‘বর্বরোচিত সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, নিরীহ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করা মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। সংগঠনটি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সহিংসতার শিকার বাসিন্দাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। বলেছে, এই হামলা কুকি-জো সম্প্রদায়কে ‘চরম আঘাত’ করেছে। কুকি সংগঠনের বিবৃতিতে নাম থাকা এনএসসিএন-আইএম, জেডইউএফ (কে) বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে কিম। একই সঙ্গে ভারত সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার কাছে অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত শুরু করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলা ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতেও তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সংগঠনটি স্পষ্ট করে বলেছে, এই জঘন্য অপরাধের জন্য যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তারা এ-ও বলেছে, এ ঘটনার জেরে পরবর্তী সময়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার জন্য তারা দায়ী থাকবে না। মণিপুরে আবার সহিংসতা, কারফিউ জারি পর্যবেক্ষকেরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এ ঘটনায় বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে। ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই সম্প্রদায়ের তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবির প্রতিবাদের পর মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সহিংসতা দ্রুত পুরো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময় সহিংসতার তীব্রতা কমলেও কাংপোকপি, ইম্ফল পূর্ব, চুরাচাঁদপুর এবং অন্যান্য জেলা থেকে এখনো বিচ্ছিন্নভাবে বন্দুক হামলা, অতর্কিত আক্রমণ ও সংঘর্ষের খবর আসছে। মণিপুর রাজ্য কেন তিন বছর ধরে জ্বলছে
📌 Kaynak
Bu özet Prothom Alo (BD) kaynağından otomatik derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →