দিনাজপুরে লিচুর উৎসব
গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে গাঢ় লাল, খয়েরি ও গোলাপি রঙের লিচু। বাতাসে ভেসে আসা লিচুর মিষ্টি সুবাস আর রোদ-ছায়ার খেলায় ফলগুলো যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মৌসুমের এই সময়ে লিচুবাগান শুধু একটি ফলের বাগান নয়, বরং গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, কৃষকের স্বপ্ন আর প্রকৃতির উদারতার প্রতীক। লিচুর রাজধানীখ্যাত দিনাজপুর জেলার প্রায় সব এলাকাতেই কমবেশি লিচুর চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় সদর উপজেলার মাসিমপুর, ঘুঘুডাঙ্গা, উলিপুর, বিরলের মাধববাটি, করলা, রবিপুর, মহেশপুর, বটহাট, খানসামার গোলাপগঞ্জ,
দিনাজপুরের লিচুবাগানগুলোতে এখন পাকা ফলের সমাহার, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া এই লিচু চাষ বর্তমানে জেলার প্রায় ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বিস্তৃত হয়েছে। মাদ্রাজি, বোম্বাই, বেদানা ও চায়না-থ্রিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু উৎপাদিত হলেও বোম্বাই জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় এর আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চাষিরা কেবল স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে পাইকার ও ক্রেতাদের পদচারণায় লিচুর কেনাবেচা বেশ জমে উঠেছে।
দিনাজপুরের লিচু কেবল একটি অর্থকরী ফসল নয়, বরং জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই পণ্যটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
📌 Kaynak
Bu özet Prothom Alo (BD) kaynağından otomatik derlenmiştir. Tamamı için orijinal habere gidin.
Orijinal haberi oku →